Sylhet Today 24 PRINT

মার্কিন জরিপ : সরকারের চেয়ে হাসিনা জনপ্রিয়

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মার্কিন এক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জরিপে দেখা যায়, সরকারের প্রতি আস্থা তৈরি হওয়ায় দেশে জনসমর্থন বাড়ছে। একইসঙ্গে বেড়েছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থনও।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই মনে করেন, বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। তবে দুর্নীতিকে তারা চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে।

গত মে ও জুন মাসে আড়াই হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ওপর চালানো এই মতামত জরিপের ফলাফল বুধবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। তাদের হয়ে জরিপটি পরিচালনা করেছে নিয়েলসন-বাংলাদেশ।

এই জরিপে বলা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চরম বিভেদ থাকলেও বিরোধী দলগুলোর দুর্বল অবস্থানের কারণে সরকারি দল আওয়ামী লীগের ওপর সাধারণ জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের তুলনায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে আরেকটু বেশি।

সংস্থাটির জরিপের তথ্যে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ এর জানুয়ারি মাসে নির্বাচনের পরে গত ১৮ মাসে সরকার তাদের পক্ষে সমর্থন আদায় করতে সমর্থ হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, মতামত প্রদানকারীরা ভবিষ্যতের অর্থনীতির সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তারা ভবিষ্যৎ অর্থনীতির বিষয়ে আশাবাদী। তবে দুর্নীতিকেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করেন তারা।

জনসমর্থন: জরিপের ফলাফলে বলা হচ্ছে, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির পর গত দেড় বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের প্রতি জনসমর্থন যথাক্রমে ৬৭ ও ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। উত্তরদাতাদের ৬০ শতাংশ বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেন। ঠিক একই সংখ্যক উত্তরদাতা জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে অপছন্দ করার কথা বলেছেন। আর বিএনপিকে যত লোক পছন্দ (৪২ শতাংশ) করার কথা বলেছেন, তার চেয়ে অপছন্দ (৪৬ শতাংশ) করার কথা বলেছেন বেশি উত্তরদাতা।

কোন দলে কেমন আস্থা: বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, তরুণদের অংশগ্রহণ, নারীদের প্রতি দায়িত্ববোধ, বিশ্বাসযোগ্যতা, ইতিবাচক নীতি, গণতান্ত্রিক সংস্কার, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দুর্নীতি দমনে কোন দলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ বেশি আস্থা রাখছে তাও জানতে চেয়েছিলেন জরিপকারীরা। উত্তরে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি ভাগেই বিএনপির চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ। যেখানে ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা আওয়ামী লীগে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আছে বলে মনে করছেন, সেখানে বিএনপির পক্ষে বলেছেন ২২ শতাংশ। শিক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাতিগত বিভাজন দূর করার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগকে বিএনপির তুলনায় বেশি সক্ষম বলে মনে করেন অধিকাংশ উত্তরদাতা।

আগামী নির্বাচন: অধিকাংশ উত্তরদাতা বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থার কথা বললেও আগামী নির্বাচন কখন হওয়া উচিৎ- সে প্রশ্নে গতবছরের তুলনায় সাধারণ মানুষের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৩ শতাংশ বলেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচন হওয়া উচিৎ। অন্যদিকে ৪০ শতাংশ উত্তর দাতা বর্তমান সংসদকে পূরো মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার পক্ষে বলেছেন। ২০০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আইআরআইয়ের জরিপে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। সে সময় ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা বর্তমান সংসদের মেয়াদ পূর্ণ করার পক্ষে বলেছিলেন; আর ৪০ শতাংশ বলেছিলেন, তারা যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন চান।

তত্ত্বাবধায়ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে জনসমর্থন কমলেও এখনও বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দেখতে চায় বলে আইআরআইয়ের এই জরিপে উঠে এসেছে। চলতি বছর জুনে এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৭ শতাংশ বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা উচিৎ বলে তারা মনে করেন। অন্যদিকে ২২ শতাংশ উত্তরদাতা এর বিরোধিতা করেছেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে যখন নির্বাচন হয়, ওই মাসে আইআরআইয়ের জরিপে ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে এবং ১৮ শতাংশ বিপক্ষে বলেছিলেন।

কোন পথে দেশ: দেশ যেভাবে চলছে তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন এ জরিপের অধিকাংশ উত্তরদাতা। ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা মেনে করেন, দেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে, যেখানে ৩৬ শতাংশ উল্টোটা মনে করেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে এই প্রশ্নে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভুল দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইতিবাচক মত দিয়েছিলেন ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘খুব ভাল’ বলেছেন ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা; ৪৪ শতাংশ বলেছেন ‘ভাল’। ১২ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৮ শতাংশ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ৬৪ শতাংশ মনে করেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশঅ করছেন ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা।

সঙ্কটের নাম দুর্নীতি: জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ দুর্নীতিকে বাংলাদেশের ‘প্রধান সমস্যা’ বলে মনে করেন। ২৪ শতাংশ উত্তরদাতার কাছ থেকে এই মত এসেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবকে ১৬ শতাংশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা বড় সমস্যা বলে মনে করছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ১১ শতাংশ বলেছেন, সরকারি সেবা নিতে তাদের ঘুষ বা উপহার দিতে হয়েছে। তাদের ৫৩ শতাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুষের অংক ছিল পাঁচ হাজার টাকার বেশি।

অনান্য: ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা উন্নয়নের চেয়ে গণতন্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ যেভাবে চলছে তাতে সান্তুষ্ট নন ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা। ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তাদের অসন্তুষ্টির কথা বলেছেন। আর পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট নন ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা। সেনাবাহিনী, র‍্যাব, আদালত ও নির্বাচন কমিশন যেভাবে চলছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যথাক্রমে ৮৬, ৭৬, ৭৩ ও ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কাজকে ৮৩ ও ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘ইতিবাচক’ বলে মনে করছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.