Sylhet Today 24 PRINT

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা কমানোয় নির্মূল কমিটির প্রতিবাদ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা দুটি থেকে কমিয়ে একটি করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।’

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়- ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি)-এর সংখ্যা দুটি থেকে কমিয়ে একটি করবার সিদ্ধান্ত আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সংবাদ আমাদের অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করেছে।

'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ থেকে কম্বোডিয়া পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণ্যহত্যার বিচারের জন্য যতগুলো ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে একাধিক কারণে বাংলাদেশের ‘আইসিটি’ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সমগ্র বিশ্বে এ ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুনালসমূহের ভেতর ঢাকার আইসিটি একমাত্র ট্রাইবুনাল যা গঠিত হয়েছে গণদাবির কারণে'।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়- মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের পরিবারবর্গ, মুক্তিযোদ্ধারা এবং বিচারপ্রত্যাশী গোটা জাতির চার দশকের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল আইসিটি। গত সাড়ে ছয় বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাজোট সরকারের বহু সাফল্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

‘আমরা মনে করি বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার যে সাফল্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করবে সেটি হচ্ছে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি। ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের দেশীয় সহযোগী ও আন্তর্জাতিক প্রভুদের শত প্রতিবন্ধকতা ও হুমকি মোকাবেলা ও উপেক্ষা করে এই বিচারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সাহস, দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন, যে বিচারের সাফল্যজনক সমাপ্তির দিকে তাকিয়ে আছে গণহত্যার শিকার বিচারবঞ্চিত বহু জাতি ও দেশ, সেই বিচার প্রক্রিয়ায় এ ধরনের বিরতি সর্বত্র সমূহ হতাশা সৃষ্টি করবে একই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী মানবতাবিরোধী জামায়াত ও অন্যান্য বিচারযোগ্য গণহত্যাকারীরা এতে উল্লসিত হবে’।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়- ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, শেষ যুদ্ধাপরাধী জীবিত থাকা পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে। অথচ আইনমন্ত্রী বার বার বলছেন দুটি ট্রাইবুনাল থাকার দরকার নেই, মামলার সংখ্যা নাকি কমে গেছে।

‘আইসিটিতে দেশীয় শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হলেও পাকিস্তানি শীর্ষ স্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কোনও উদ্যোগই এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি, প্রধানত যে উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭৩ সালে আইসিটি আইন প্রণয়ন করেছিল। আইন সংশোধন করা হলেও এখন পর্যন্ত দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য ঘাতকবাহিনী ও দলের বিচার আরম্ভ হয়নি’।

বিবৃতিতে বলা হয়- এখন পর্যন্ত তদন্ত সংস্থার কাছে প্রায় সাতশ অভিযোগ তদন্তের অপেক্ষায় আছে। জেলা উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত করলে আরও শত শত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনার সন্ধান/অভিযোগ পাওয়া যাবে। যে গতিতে দুটি ট্রাইবুনাল কাজ করছে এসব বিচার সম্পন্ন করতে হলে আরও ২০ বছর লাগবে। দুটির পরিবর্তে ট্রাইবুনাল একটি হলে ’৭১-এর অবশিষ্ট গণহত্যাকারী মানবতাবিরোধীদের বিচার কোনকালেই করা যাবে না কারণ, বিচার প্রক্রিয়া আরম্ভের আগেই তারা শাস্তি ভোগ না করে ধরাধাম ত্যাগ করবে।

‘আইসিটির সংখ্যা প্রথম থেকে আমরা আরও বাড়াতে বলেছি। দক্ষ জনশক্তি ও রসদের অভাবে ট্রাইবুনালের সংখ্যা হয়তো বাড়ানো যাবে না, কিন্তু গত সাড়ে পাঁচ বছরে যে দক্ষতা দুটি ট্রাইবুনালের বিচারক, আইনজীবী, তদন্ত সংস্থা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা অর্জন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করতে পারে সেটি বিঘ্নিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জামায়াতে তখন এ কথা আর জোরের সঙ্গে বলবে যে, তাদের নেতাদের বিচারে পর ট্রাইবুনাল সরকারের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে গেছে।

‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আকুল আহ্বান জানাচ্ছি— ট্রাইবুনালের বর্তমান সংখ্যা ও বিচার প্রক্রিয়া অক্ষুণœ রেখে দল হিসেবে জামায়াত ও সহযোগীদের বিচার এবং শীর্ষস্থানীয় পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া দ্রুত আরম্ভের জন্য।’

বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি মোহম্মাদ গোলাম রাব্বানী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল স্বাক্ষর করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.