সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের হামলায় নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বাবা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. অজয় রায় বলেছেন, ব্লগারদের নাস্তিক বলে হত্যা করার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। কে আস্তিক, কে নাস্তিক সেটা নির্ধারণ করবেন আল্লাহ। আমরা কেউ যেন নিজের হাতে এ দায় না নিই।
শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের দশম জাতীয় সম্মেলনের উদ্ভোধক হিসাবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
‘দলীয়করণ-লুটপাট-সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-সাম্রাজ্যবাদ রুখো’ এ স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল ৩টায় সম্মেলন শুরু করে যুব ইউনিয়ন। সেখানে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন ড. অজয় রায়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যুব ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ক্বাফী। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল।
এতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যুব সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. অজয় রায় আরো বলেন, একটি সশস্ত্র অস্ত্রধারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়েছে। আমরা যাদের গতিশীল লেখক বলি, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের ব্লগার বলে। সেই ব্লগারদের একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে। ইসলাম প্রগতির ধর্ম। আমি জানি না, একটি মানুষকে হত্যা করে তারা কীভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান।
সভাপতির বক্তব্যে যুব ইউনিয়নের সভাপতি ক্বাফী রতন বলেন, হত্যা করে আন্দোলন ব্যাহত করা যায় না। আমরা ঘুষ ছাড়া চাকরি চাই, লুটপাট চাই না। দলীয়করণ চাই না। এটা আমাদের যুব ইউনিয়নের আগামীর অঙ্গিকার।
সম্মেলনে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, বিভিন্ন ছাত্র রাজনীতি যখন চাঁদাবাজী লুটপাটে ব্যস্ত তখন যুবসমাজকে এসব থেকে মুক্ত রাখতে যুব ইউনিয়ন সংঘটিত হয়। তাই যুব ইউনিয়ন তাদের এ আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবে। শিক্ষাকে যেভাবে ভ্যাট দিয়ে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে তাতে শিক্ষা ব্যবস্থা সঙ্কটে নিমজ্জিত হচ্ছে। ভ্যাটের পরিবর্তে সরকারকে এক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়িয়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।
সম্মেলন শেষে সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের নিয়ে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে বাটা সিগন্যাল, নিউমার্কেটের সামনের রাস্তা ঘুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।