সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
‘টিউশন ফির ওপর আরোপ করা মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) কারণে টিউশন ফি যাতে না বাড়ে তা প্রতিহতের ব্যবস্থা নাও’।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘বিতর্ক বিকাশ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির ওপর যে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা দিতে চেয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি নজর না দেয়, তাহলে আগামী বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্যভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর তা চাপিয়ে দেবে।
তিনি বলেন, ফিস-টিস, ডেভলপমেন্ট ফান্ড ইত্যাদির মাধ্যমে ভ্যাটের টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে আমি বলেছি তোমরা (শিক্ষার্থী) আগামী বছরের জন্য প্রস্তুতি নাও। যাতে ভ্যাটের কারণে তোমাদের ফিস আবার না বাড়ে। এটি প্রতিহত করার প্রচেষ্টা নাও।
এদিকে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের বলরুমে বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড-২০১৪ প্রদান অনুষ্ঠানে সংবাদিকদের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি'র উপর আরোপিত ভ্যাট এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। তবে আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদেরকেই ভ্যাটের টাকা প্রদান করতে হবে। আজ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
যদিও বৃহস্পতিবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই ভ্যাটের টাকা প্রদান করতে হবে। ভ্যাটের জন্য টিউশন ফি বাড়ানো যাবে না। অথচ একদিন পরই আজ শিক্ষার্থীদের ভ্যাট দিতে হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছর ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় যাতে এই ভ্যাট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় না করে, সেজন্য সরকার মনিটরিং করবে। আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদেরই ভ্যাট দিতে হবে।
আরোপিত ভ্যাট এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান মন্ত্রী।
শুক্রবারের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যেহেতু প্রথম বছর হিসেবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে, তাই আমরা তা মেনে নিয়েছি। এ বছর শিক্ষার্থীদের ভ্যাট দিতে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ভ্যাট পরিশোধ করবে। কিন্তু পরবর্তী বছর থেকে শিক্ষার্থীদেরই ভ্যাট দিতে হবে।
এসময় বেসরকারি শিক্ষার্থীদের প্র্রতিদিনের ব্যয় ১ হাজার টাকা উল্লেখ করে এর থেকে মাত্র ৭৫ টাকা ভ্যাট চাচ্ছেন বলেন জানান মুহিত।
উল্লেখ্য, চলতি বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের টিউশন ফির উপর সাড়ে সাত শতাংশ কর আরোপ করে সরকার।
কর আরোপের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকেও বলা হয়, শিক্ষার্থী নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করবে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীও সংসদে দাঁড়িয়ে একই কথা বলেন।
এদিকে, শিক্ষা কোন পণ্য নয়, শিক্ষায় ভ্যাট নয়- এমন দাবিতে বৃহস্পতিবার ঘোষিত ৩ দিনের ছাত্র ধর্মঘট চলছে।