সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ নভেম্বর, ২০১৯
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার আসামিরা তর্জনি উঁচিয়ে হাসিমুখে আদালতের ভেতর প্রবেশ করেছে। প্রিজন ভ্যান থেকে আদালতের ভিতরে প্রবেশ করার সময় ৮ জঙ্গিকে নির্ভার দেখা গেছে। তাদের চোখেমুখে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা নিয়ে কোনো ধরনের অনুশোচনার চিহ্ন দেখা যায়নি। জঙ্গির মধ্যে একজনের পায়ে সমস্যা থাকায় সে ক্রাচে ভর করে আদালতের ভেতরে প্রবেশ করে।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আসামিদের প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজত খানায় আনা হয়। ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে বেলা ১২টা নাগাদ রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
আলোচিত এই মামলার আসামিরা হলো- রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন।
রায়ের আগে চার্জশিটের ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। পরদিন সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে জিম্মিদের মুক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। এছাড়া দুজন পুলিশ কর্মকর্তা ও বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন। আহত হন ৩৬ জন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করে। প্রায় দুই বছর তদন্ত শেষে ২১ জনের সম্পৃক্ততা পায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। তাদের মধ্যে আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিটিটিসি। বাকি আসামিরা বিভিন্ন অভিযানে নিহত হওয়ায় তাদের অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়।