সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ‘জিপিএ ফাইভ নির্যাতন’ এর শিকার বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে ‘দ্বিতীয় ভাষা উৎসব’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান নূর নিজের শৈশবের সঙ্গে বর্তমান শিশুদের তুলনা করে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, পড়ার চাপে স্কুলশিশুদের অন্য সব ক্ষেত্রের বিকাশ আটকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আজকাল শেখানের পদ্ধতিটা খুব জটিল। ভোর ৭টার সময় বাচ্চাগুলোকে টানতে টানতে স্কুলে নিয়ে যায়। এরপর তারা এতগুলো হোমওয়ার্ক নিয়ে বাড়িতে আসে।
“হোমওয়ার্কের ঠেলায় না খেলতে যেতে পারে, না গান শিখতে পারে, না কবিতা পড়তে পারে, না ছবি আঁকতে পারে। আরেকটু বড় হলে যেটা শুরু হয়, সেটা হল জিপিএ ফাইভ নির্যাতন।”
এ নিয়ে অনেক অভিভাবকের সঙ্গে নিজের কথোপকথনও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।
“আমি তাদেরকে বলি, আপনি কি ক্রিকেট খেলা দেখেন? তারা বলেন, ক্রিকেট তো খুব পছন্দ করি। বলি কার খেলা পছন্দ করেন? তারা বলেন, সাকিব আল হাসানের। আমি বলি, সাকিব কি জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন- তা জিজ্ঞেস করেন?”
“তাদের কাছে জানতে চাই, গান শোনেন? আমাদের দেশের একজন গানের শিল্পী আছেন, অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি আবার এমপি। টাকার অঙ্কে যদি সাফল্য বিবেচনা করেন, তিনি একটা অনুষ্ঠানের জন্য কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা নেন। কেউ কি জিজ্ঞেস করে, মমতাজ জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন কি না?”
“জিপিএ ফাইভ রবীন্দ্রনাথ পেয়েছেন? তিনি তো বড়লোকের ছেলে ছিলেন, স্কুলে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। নজরুল পেয়েছেন? বেচারা রুটির দোকানে কাজ করতে করতে স্কুলে যাওয়ার সুযোগই হয়নি। কিন্তু তার বই পড়েই তো জিপিএ ফাইভ পেতে হচ্ছে।”
“আইনস্টাইন সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী। তিনি গণিতে ফেল করেছিলেন। আমি ফেল করতে বলি না। কিন্তু তার হাতে সব সময় বেহালা থাকত। সব সময়। জীবনের সৌন্দর্য তিনি সংগীতে খুঁজে পেয়েছিলেন। আমরা সেই সৌন্দর্য খুঁজে পেতে কোনো চেষ্টা করি না।”
নিজের সাম্প্রতিক ইরান, রাশিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “কেউ নিজের ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বললো না। আর্মেনিয়া অত্যন্ত ছোট দেশ, জনসংখ্যা ৩৫ লাখ। ইংরেজি জানেও দুই-চারজন। কিন্তু দোভাষী নিয়ে নিজের ভাষায়ই বলল।
“দোকানে, রাস্তার সাইনবোর্ড সব কিছু নিজের ভাষায় লেখা। সেখানে আমরা কেন আমাদের ভাষা নিয়ে গর্বিত হব না।”
বাংলা একাডেমি, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ এবং মাই একাডেমির উদ্যোগে এই উৎসবে প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অনুযোগ জানান।
“আমাদের স্কুল জীবনে বানানের নিয়ম-কানুন বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিপালন করা হত। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন ধরনের বানান আসতে থাকল। এগুলো বেশ জটিল ব্যবস্থা সৃষ্টি করে। বাংলা বানানের সহজীকরণ করা হয়েছে, সেখানে ভুল হয়। তাতে উচ্চারণে গোলমাল হয়ে যায়।”
তবে বাংলা একাডেমি বানানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে বলে মনে করেন মুহিত।
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সুবহানী, মাই একাডেমির চেয়ারম্যান এ টি কে এম ইকবাল প্রমুখ।