সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ অক্টোবর, ২০১৫
জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জঙ্গিবাদকে বৈশ্বয়িক সমস্যা আখ্যায়িত করে জাতিসংঘের ৭০ তম অধিবেশনেও বাংলায় দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “বিশ্বে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আজ আমরা সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি, যার প্রথমটি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ। বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে এটি প্রধান অন্তরায়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সব রাষ্ট্রকে এক হয়ে লড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন-
“সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
বিশ্বের নানা প্রান্তে জঙ্গিদের হামলা, বাংলাদেশে এক ইতালীয় নাগরিক খুন এবং হত্যার দায় স্বীকার করে জঙ্গি দল আইএসের কথিত বার্তার প্রেক্ষাপটে বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘের ওয়েব টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত বুধবার সকালের (যুক্তরাষ্ট্র সময়) অধিবেশনে একাদশ বক্তা হিসেবে ভাষণ দিতে দাঁড়ান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দুভাতগ্লুর পর তার পালা আসে।
নিজের সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদের শিকার হওয়ার উদাহরণ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ট্রাজেডি এবং ২০০৪ সালের ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে এক্ষেত্রে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথাও বলেন তিনি।
বিশ্বে উন্নয়ন ও শান্তির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কথা বলেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।
“জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব না হলে আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।”
“আমাদের সামনে সামান্যই সুযোগ অবশিষ্ট আছে। এ বিশ্বকে নিরাপদ, আরও সবুজ এবং আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আমাদের অবশ্যই সফলকাম হতে হবে,” বলেন তিনি।
পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যত গড়তে নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
“আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের সামষ্টিক অঙ্গীকার অনুযায়ী এমন একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলি যেখানে দারিদ্র্য এবং অসমতা, সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সংঘাত এবং বিদ্বেষ ও বৈষম্য থাকবে না।”