Sylhet Today 24 PRINT

দেশকে অস্থিতিশীল করতেই বিদেশীদের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক |  ০৪ অক্টোবর, ২০১৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে দু’জন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে একই স্টাইলে। একটি গুলিও মিস হয়নি। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল সুপরিকল্পিত। বিএনপির এক নেতার কিছু বক্তব্য ও এরপর তার যে প্রতিক্রিয়া, তা মিলিয়ে নিলেই এ রহস্যের উত্তর পাওয়া যাবে। 

দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। যে ঘটনাই ঘটছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি উল্লেখ করে এ দুই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।  

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার পর শুরু হওয়া এ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করা হচ্ছে। কারো ফাঁসির রায় কার্যকরের সময় যখন ঘনিয়ে আসছে, তখনই এসব হচ্ছে। তিনি বলেন, একটা পক্ষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা এটা অব্যাহত রাখবে। এটা ওটা ঘটাতেই থাকবে। আমরা মানবতাবিরোধীদের বিচার করতেই থাকবো আর তারা চুপচাপ বসে থাকবে, তা তো হতে পারে না। 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি নেত্রী তো তিন মাস এক অফিসের মধ্যে বসে থেকেই দেড়শ’-দুইশ’ মানুষ হত্যা করলেন। কয়েক হাজার মানুষকে আহত করলেন। এটা কিন্তু সারা বিশ্বও ভালোভাবে নেয়নি।

ওই তিন মাস সময় নষ্ট করা সত্ত্বেও আমরা ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছি। যে যেভাবেই ব্যাখ্যা দিক, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ এর ফলও ভোগ করছে। 

তিনি বলেন,আমার অনুপস্থিতিতে ঘটনা ঘটলেও আমি যেখানেই থাকি, প্রতিনিয়ত সবকিছু জানতে পারি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের সব অর্জন যদি ধুয়ে যায় এ দুই ঘটনায়, তাহলে বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্য সফল হবে। কাজেই সেটাও হতে দিতে পারি না। 

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এবারের অংশগ্রহণে সাফল্য, চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ ও আইসিটি অ্যাওয়ার্ড অর্জনসহ বিভিন্ন বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। 

উল্লেখ্য,গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। তিনি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বিশ্বনেতাদের এক হওয়ার আহবান জানান।

এই সফরে তিনি ‘চ্যাম্পিয়নস অফ দি আর্থ’ ও ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ গ্রহণ করেন।

আইটিইউ’র ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ২৬ সেপ্টেম্বর সংস্থার মহাসচিব হাউলিন ঝাও শেখ হাসিনার হাতে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ তুলে দেন।

তথ্য-প্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (আইটিইউ) বাংলাদেশকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে।

পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অফ দি আর্থ’ পুরস্কার গ্রহণ করেন। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) নির্বাহী পরিচালক অ্যাচিম স্টেইনার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক আরও একটি আলোচনার উদ্বোধনী অধিবেশনেও কো-চেয়ার হন প্রধানমন্ত্রী। ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে ‘মেধাস্বত্ব আইন’ পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি।

একইদিন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সম্মেলন কেন্দ্রে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ে এক গোলটেবিল আলোচনাতেও অংশ নেন।

২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিশ্ব নেতাদের এক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ২৯ সেপ্টেম্বর এমডিজি ও এসডিজি বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায়ও বক্তব্য রাখেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.