দেবব্রত চৌধুরী লিটন | ১৬ অক্টোবর, ২০১৫
২০০৪ সালে গঠিত হয়েছিলো ৩ বছর মেয়াদী দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি। ৩ বছরের জায়গায় পেরিয়ে গেছে ১১ বছর। তবু সম্মেলন করতে পারেনি বর্তমান কমিটি। দীর্ঘ ১১ বছর পর আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন।
দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তৎপতরা শুরু হওয়ায় দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা। গ্রুপিং-লবিং আর তদবিরের মাধ্যমে কাঙ্খিত পদ লাভের চেষ্টা চলাচ্ছেন তারা। সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামীলগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চাঙ্গাভাব।
এখনো তারিখ চুড়ান্ত না হলেও নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে পারে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ নেতারা। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও নভেম্বরের ২য় সপ্তাহের মধ্যে কাউন্সিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, আগের কাউন্সিলগুলোর মতো এবার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। তাই পদপ্রত্যাশীরা কাউন্সিলের ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন।
সিলেট নগরীর সবচেয়ে নিকটবর্তী উপজেলা দক্ষিণ সুরমায় আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। এরআগে ২০০৩ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির নেতৃত্বে ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন। তিন বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০০৭ সালে। তবে দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও সম্মেলন করতে পারেনি বর্তমান কমিটি।
২০০৪ সালের সম্মেলনে ডা. আবদুর শুকুর সভাপতি, রইছ আলী সাধারণ সম্পাদক ও মোঃ বদরুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ডা. শুকুর মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান সাইফুল আলম।
নতুন কমিটিতেও সাইফুল আলম সভাপতির পদ প্রত্যাশী। সভাপতি পদের জন্য তিনি নিজের অনুসারীদের মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সভপতির পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেব বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রইছ আলী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঈনুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা নেতাকর্মীদের কাছে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাধারণ সম্পাদক হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক রাজ্জাক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম শায়েস্তা ও ডা. আব্দুশ শুকুরের ছেলে এডভোকেট শামীম আহমদ। এরা নেতাকর্মীদের মাঝে নিজেদের প্রার্থীতার কথা জানা দিচ্ছেন।
পদ প্রত্যাশী নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলার নেতাদের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন নিয়মিত। অনেকেই ছুটছেন সম্মেলনের ডেলিগেটদের বাসা বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ১০টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত এ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ২১ জন কাউন্সিলার ডেলিগেট ও জেলার ১৫ জন নেতা মনোনয়নে গঠিত হবে উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি।
জানা যায়, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতি মুলত দুইটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত। একটি শিবিরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ সামাদ চৌধুরী কয়েস সমর্থকরা অপর শিবিরে সংসদ সদস্য বিরোধীদের অবস্থান।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল আলম সাংসদ বলয়ের লোক হিসেবে পরিচিত। মইনুল ইসলামও সাংসদ বলয়ের নেতা। অপরদিকে ারেক সভাপতি পদ প্রত্যাশী রইছ আলী সাংসদবিরোধী বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।
তবে এমন বলয়ের কথা অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রইছ আলী বলেন, আমরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। দক্ষিণ সুরমা আওয়ামী লীগে কোনো বিভাজন নেই।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী এডভোকেট মোহাম্মদ শামীম আহমদ বলেন, কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আশা করছি এবারও নির্বাচনের মাধ্যমে নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হবে।
সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী বদরুল ইসলাম বলেন, অতীতেও ভোটের মাধ্যমে দক্ষিন সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।