সিলেটটুডে ডেস্ক | ০২ জানুয়ারী, ২০১৬
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এক আলোচনা সভায় বর্তমান সরকার ‘হাফ-রাজাকারের’ চরিত্র নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
শুক্রবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হওয়া এ আলোচনা সভায় চার মূল স্তম্ভ যারা মানেন না তাদের ‘হাফ-রাজাকার’ আখ্যায়িত করে সিপিবি সভাপতি বলেন, “সে হিসেবে আমি মাঝে মাঝে বলি, যারা চার নীতি মানে না তারা রাজাকার। আর যারা দুই নীতি মানে না, তারা হাফ-রাজাকার। তাহলে বর্তমান সরকার হাফ-রাজাকারের চরিত্র নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে একটি স্লোগান তুলেছে- আগে উন্নয়ন, তারপর গণতন্ত্র। তাহলে পার্লামেন্টে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে চার নীতি থেকে গণতন্ত্র শব্দটা আপাতত স্থগিত করে দেন।
“কিন্তু সেটা না করে আপনি বলেন, গণতন্ত্র আপাতত পেছনে ফেলে দিলাম।”
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চার মূলনীতি অর্ন্তভুক্ত রয়েছে।
সভায় সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
তিনি বলেন, “সরকার খাল কেটে কুমির আনার ব্যবস্থা করছে। জনগণ ও সংসদে কোনো আলোচনা ছাড়াই সৌদি আরবের জোটে অংশগ্রহণ সংবিধান লঙ্ঘনের সমান। কারণ বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ।”
“আমরা পাকিস্তানের গোলামী ছিন্ন করেছিলাম আমেরিকার গোলাম হওয়ার জন্য নয়। এখন দেশকে আমেরিকার গোলামে পরিণত করা হয়েছে।”
বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘মাহাথির মোহাম্মদের নীতি’ অনুসরণ করছে দাবি করে সভায় এ পথকে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর পথের’ বিপরীত বলে মন্তব্য করেন সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
তিনি বলেন, “সরকার বলে আমরা এখন মালয়েশিয়ার পথ অনুসরণ করি। মাহাথিরের পথ অনুসরণ করি।
"তাহলে বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার পথ গ্রহণ করলাম আর মুক্তিযুদ্ধের পথ পরিত্যাগ করলাম। মালয়েশিয়া এবং মাহাথিরের পথ আর মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর পথ পরস্পর বিরোধী। দুইটা একসাথে চলতে পারে না।”
১৯৮১ সালে চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে টানা ২২ বছর মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান থাকার পর ২০০৩ সালে অবসর নেন মাহাথির মোহাম্মদ। এ সময়ে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে আসে বলে মাহাথিরকে অনেকেই আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে অভিহিত করে থাকে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তার বিরুদ্ধে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
সিপিবি সভাপতি বলেন, আজকে এ সরকারকে জবাব দিতে হবে- যে মুক্তিযুদ্ধের পথে আমরা থাকতে চাই, সে পথে আপনারা ফিরে আসবেন কিনা? আজ সে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “এখান থেকে উদ্ধার করার জন্য যে বিরোধী দল (বিএনপি) তার চরিত্রও স্পষ্ট। তারা জামায়াতকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে লালন-পালন করছে। মানুষের চিন্তা-ভাবনাকে অন্য পথে পরিচালনা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
"তাই তারা বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।”
এ প্রেক্ষিতে 'উদ্ধারকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য' বাম ধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সেলিম।
উল্লেখ্য, ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকায় দেশটির দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে মতিউল ইসলাম ও মির্জা কাদের নামে দুজন মারা যায়। এ ঘটনার স্মরণে দিনটিকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে থাকে বাম ধারার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার, উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।