সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
জাতীয় পার্টির (আহা) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নির্বিঘ্নে ভোটের প্রচার চালানো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সে ধরনের কোনো নির্দেশনা না থাকায় আমরা আশাহত হয়েছি।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানে অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়ামের জরুরি বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বাসভবনে প্রেসিডিয়ামের বৈঠক চলাকালে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ শুরু হলে, বৈঠক স্থগিত রেখেছে ভাষণ শুনেন নেতৃবৃন্দ।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ আশা করেছিল যে প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে কিভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকবে। কিন্তু জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে অংশগ্রহণমূলক হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই।
তিনি বলেন, যেসব রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে জুলাই–আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, সে মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারেও প্রধান উপদেষ্টা কিছু বলেননি। অথচ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা জরুরি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময়ই নির্বাচনমুখী দল। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের সুযোগ নেই। তাই আমাদের সব সময় নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। কোনো কারণে নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক না হয়, তাহলে নির্বাচনের পর গঠিত সংসদ ক্ষণস্থায়ী হতে পারে।
দেশে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয় সে ব্যাপারে সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি দেশের সক্রিয় ও বড় রাজনৈতিক দলগুলোকেও উদারতা প্রদর্শন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রতনা, মাসরুর মওলা, মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আরিফুর রহমান খান, সরদার শাহজাহান, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মো. বেলাল হোসেন প্রমুখ।