Sylhet Today 24 PRINT

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মতবিনিময় সভায় প্রথম আলো-ডেইলি স্টার সম্পাদকসহ মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ উপলক্ষে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বিএনপি। এতে অংশ নিয়েছেন দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ দেশের শীর্ষ মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, রেডিও-টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করে ‘তারেক রহমান-স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি’।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর, সদস্যসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সদস্য শাম্মী আক্তার, মোর্শেদ হাসান খান, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ও বক্তব্য দেন যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান (বিলুপ্ত) কামাল আহমেদ, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, নয়াদিগন্তের সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলি, ইনকিলাব প্রত্রিকার সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, বিবিসি বাংলার সাংবাদিক কাদির কল্লোল, চ্যানেল২৪ এর হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, আজকের পত্রিকা সম্পাদক কামরুল হাসান, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদ, ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, কাজী জেসিন প্রমুখ। 

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান
মতবিনিময় সভায় জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এত বিরোধ, এত বিভেদ, এত সংকট নিয়ে কোনো দেশ টিকতে পারে না। কোনো সরকারও কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে না।’

মতিউর রহমান বলেন, দেশে একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বিপজ্জনক। এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের আরও আগে দেশে ফেরা সম্ভব হলে বিএনপি ও দেশের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমানের অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রথম আলো সম্পাদক।

আগামী দিনে সরকার গঠনকারী দলের জন্য সময়টা হবে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় বলে মনে করেন মতিউর রহমান। বিএনপির কাছ থেকে আরও বেশি সহ্যশক্তি, আরও বেশি সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এখনো দেশের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং নির্বাচনে তারা বড় ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যে দল ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, তাদের নেতৃত্ব, আচরণ ও বিনয় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’ তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী তালিকা নিয়েও মানুষের মধ্যে খুব বেশি উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। কিছু জায়গায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে কি না, তা ভেবে দেখা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

আগামী দিনে সরকার গঠনকারী দলের জন্য সময়টা হবে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় বলে মনে করেন মতিউর রহমান। বিএনপির কাছ থেকে আরও বেশি সহ্যশক্তি, আরও বেশি সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, বিএনপির শাসনামলে সংবাদপত্র খুব স্বস্তিতে ছিল—এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে তুলনামূলকভাবে সে সময়টি ছিল কিছুটা বেশি সহনশীল। অন্যদিকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ১৫-১৬ বছরে সংবাদপত্র শিল্প সবচেয়ে বেশি ভীতি ও চাপের মধ্য দিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, ‘এই সময়টাতে শুধু প্রথম আলো নয়, পুরো গণমাধ্যমকেই ভয়াবহ চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে তা ছিল ভয়ংকর।’ এ সময় ডিজিএফআইসহ (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপ, মালিকানা বদল, সম্পাদক পরিবর্তন ও শেয়ার হস্তান্তরের চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে শুধু সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেই হবে না; সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে একটি জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। এত বিভক্ত সমাজ নিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না।

সরকার যদি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক পথে এগোতে চায়, তাহলে সংবাদপত্রের সমালোচনা শুনতে হবে উল্লেখ করে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘শুনবেন, জানবেন—মানবেন কি না, সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত। কিন্তু না শুনলে ভুলের পুনরাবৃত্তি হবেই।’

দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম
বাংলাদেশের ৫৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো সরকারই প্রকৃত অর্থে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা গ্রহণ করেনি, এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নতুন বাংলাদেশে স্বাধীন ও সমালোচনামূলক গণমাধ্যম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম।

মাহফুজ আনাম বলেন, সত্যিকার অর্থে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন ধরনের মিডিয়া পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তাঁর মতে, তারেক রহমানের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সময়। কারণ, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এই মুহূর্তে একধরনের ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থার মধ্যে আছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার কথা তুলে ধরে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৩ বছরের বয়সে কখনো কোনো মিডিয়া অফিসে আগুন দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে আগুন জ্বালানো হয়েছে। কেন? আমরা কী অপরাধ করেছি? এটা সমস্ত মিডিয়ার প্রশ্ন করা উচিত।’

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে একটি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন মাহফুজ আনাম। তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু প্রথম ধাপ, কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সমালোচনামূলক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। ‘আপনি ক্ষমতায় না থাকলে মিডিয়ার প্রতি উদার থাকা সহজ, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে আপনি সমালোচনা কতটা গ্রহণ করেন—সেটাই আসল পরীক্ষা,’ বলেন তিনি।

বিএনপির কাছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা রেখে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমাদের ৫৩ বছরের রাজনীতিতে বড় অভিজ্ঞতা হলো কোনো সরকারই কখনো সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে গ্রহণ করেনি। আমি আশা করব, নতুন বাংলাদেশে বিএনপি সেই জায়গায় পরিবর্তন আনবে।’

সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, এটি শুধু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার বিষয় নয়, বরং সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি যদি সত্য কথা শুনতে না চান, তাহলে আপনি ভুল করবেন এবং সেই ভুল বারবার করবেন।’

সাংবাদিকতায়ও ভুল হতে পারে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, সেই ভুল ধরিয়ে দিলে তা সংশোধনের দায়িত্ব গণমাধ্যমের। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি দেখান কোনো রিপোর্ট তথ্যভিত্তিক নয় বা ভুল, আমরা ক্ষমা চাইব। ডেইলি স্টার সবচেয়ে বেশি ক্ষমা চেয়েছে। কারণ, আমরা ভুল স্বীকার করি।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.