সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
জামায়াত-এনসিপি জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী এমন প্রচারণা চলছিল। এটা নিয়ে কোন ঘোষণা না থাকলে নির্বাচনি প্রচারণায় নাহিদ ইসলামের অনুসারীরা সেটা প্রচার করছিলেন। অবশেষে জোট-প্রধান জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানালেন তারা নির্বাচনে বিজয়ী হলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে নির্বাচনি জনসভায় শফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি নাহিদ ইসলামের হাতে শাপলা কলি প্রতীকও তুলে দেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এ আসনে দুইজন প্রার্থী আছেন। দুইজনকেই আপনারা চেনেন। নাহিদ ইসলামের জন্ম এখানে, বেড়ে ওঠা এখানে। আমি মায়ের কাছে মাসির গল্প শোনাতে চাই না। আমার থেকে নাহিদকে আপনারা ভালো চেনেন। এটা বলতে চাই, ইনসাফের বাংলাদেশে জনগণের রায় এবং আল্লাহর মেহেরবানিতে যদি বিজয় অর্জিত হয়, সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে অবশ্যই আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন। আমরা হাতে হাতে ধরে কাজ করব।’
ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমির বলেন, ‘জুলাইয়ে যারা পাহারাদার ছিলেন ১২ তারিখ ও আপনারা পাহারাদার হবেন। আমাদের কাছে আপনাদের ১টা ভোট গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের কাছে ১টা আসন ও গুরুত্বপূর্ণ।’
নিজের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১১ সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা-১১ আসনে পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলার মাঠ, স্কুল, হাসপাতাল নেই। ১০০ ভাগ হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভর। কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। ঢাকা-১১ আসনে সরকারি হাই স্কুল নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৫টি। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরাটাই নির্ভরশীল হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের ওপরে। বর্ষাকালে প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
তিনি এ বিষয়ে আরও বলেন, এই এলাকার মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকা পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেমের আওতায়। বাকি ৭০ শতাংশ এলাকা অপরিকল্পিত ড্রেনেজ। নর্দমা এবং আশেপাশের খালগুলো সেটা পূরণ করে। রামপুরা খাল, শাহজাদপুর খালসহ এই এলাকার খালগুলো দখল করা হয়েছে। নদী দখল করা হয়েছে বালু ফেলা হয়েছে। এই খালগুলো আর আমাদের সেই সুবিধা দিতে পারে না।
নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। রাজধানীর গুলশান (ডিএনসিসি ওয়ার্ড ২১, ২২, ৩৭-৪২), সবুজবাগ (ডিএনসিসি ওয়ার্ড ২৩) এলাকা নিয়ে এই আসন। এই আসনে মোট তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। এরবাইরের প্রার্থীরা হচ্ছেন: কহিনূর আক্তার বীথি (স্বতন্ত্র), কাজী মো. শহীদুল্লাহ (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট), মো. আবদুল কাদের (গণফোরাম), মো. আরিফুর রহমান (গণঅধিকার পরিষদ - জিওপি), মো. জাকির হোসেন (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি - বিআরপি), মো. মিজানুর রহমান (ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি - এনপিপি), শামীম আহমেদ (জাতীয় পার্টি), এবং শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
এই আসন ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন পুরুষ, ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন নারী, এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। দ্বাদশ সংসদে এই আসনের এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ ওয়াকিল উদ্দিন।