Sylhet Today 24 PRINT

জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের ১৫ কোটি আসিফ ও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন হাসনাত

প্রশাসকের অভিযোগ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ৩১ মে, ২০২৬

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন, জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।

মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে আসিফ মাহমুদ মুরাদনগরে ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ দেবিদ্বারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এটি জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থ। যারা সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বলতেন, তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সমন্বয়ের অভাব ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাদের চরিত্র এমনই ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ইতিমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

জেলা পরিষদের প্রশাসকের অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ জেলা পরিষদের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেবীদ্বারে ১০ কোটি নয়, বরং ৫ কোটি টাকা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব খাত ও বিশেষ বরাদ্দের পার্থক্য বুঝলে জেলা পরিষদের প্রশাসক এমন মন্তব্য করতেন না। তার ভাষায়, বক্তব্যটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন অর্থ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হয়েছে, অথচ তা উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদের এই ১৫ কোটি টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে সমালোচনা শুরু হলে পরে সাংবাদিকদের কাছে এর ব্যাখ্যা দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। এটাকে তিনি উপজেলা-উপজেলায় বৈষম্য বলে মন্তব্য করেন।

বিএনপি-দলীয় এই প্রশাসক বলেন, তারা দুটি উপজেলায় প্রকল্পের নামে যথাক্রমে ১৫ কোটি ও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। একই সময়ে পাশের অন্য উপজেলাগুলোতে ১০ লাখ, ১৫ লাখ করে টাকা গেছে। এটা তো বৈষম্য। আমি সেই বৈষম্যের কথাই বলতে চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্পের নামে ১৫ কোটি মুরাদনগরে এবং দেবীদ্বারে ১০ কোটি টাকা উনারা নিয়ে গিয়েছেন। তারা বলুক যে তারা এই টাকা নেননি। তারা আমাদের জেলা পরিষদের মাধ্যমে এটা নিয়েছে।

উনারাই বৈষম্যের সৃষ্টি করেছেন দাবি করে মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, ওই সময় অন্যান্য উপজেলায়- তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় ১০ লাখ ১৫ লাখ ১৮ লাখ, কোথাও ২৬ লাখ; এ রকম করে বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু দুইটি উপজেলায় এডিবি এবং আমাদের নিজস্ব তহবিলের টাকা ১৫ কোটি আরেক যায়গায় ১০ কোটির মতো টাকা তারা নিয়ে গিয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.