Sylhet Today 24 PRINT

ফেসবুক থেকে আয় করছেন মন্ত্রী-এমপিরা, ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বলছে টিআইবি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০১ জুলাই, ২০২৬

গত ৪ মার্চ বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি একটি ভিডিও পোস্ট করে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের মোবাইল ফোনটি উঁচিয়ে ধরে দর্শকদের দেখান যে, কীভাবে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কনটেন্টের মাধ্যমে টাকা আয় হচ্ছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই নেতা দেখান, লাখ লাখ বার দেখার পর কেবল একটি ছবি থেকেই তার আয় হয়েছে ৩৩০ ডলার। তিনি আরেকটি ভিডিও দেখান, যা থেকে আয় হয়েছে ৪০ ডলার এবং জানান, কেবল মার্চের প্রথম দুদিনেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১২৯ ডলার আয় হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্ট থেকে আয় করার সুযোগ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য নিষিদ্ধ। তবে এমন স্পষ্ট নীতি থাকার পরও বাংলাদেশের অন্তত ১৩ সংসদ সদস্যের (এমপি) ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মেটার ‘কনটেন্ট মনিটাইজেশন’ কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান মন্ত্রিসভার তিন সদস্যও আছেন।

তথ্য যাচাইকারী (ফ্যাক্টচেক) প্রতিষ্ঠান ‘ডিসমিসল্যাব’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সংস্থাটি বলছে, এসব অ্যাকাউন্টে নিয়মিত বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনও প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে মেটার নিজস্ব নীতি প্রয়োগের কার্যকারিতা, যাচাই প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ‘স্বার্থের সংঘাত’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছে ডিসমিসল্যাব। অনুসন্ধানে মেটার প্রকাশ্য ‘পার্টনার-পাবলিশার’ তালিকা এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘হোয়াট টু ফিক্স’ সংরক্ষিত মনিটাইজেশন আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ডিসমিসল্যাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার ‘কনটেন্ট মনিটাইজেশন’ কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা ভেরিফায়েড ১৩টি ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইলের মধ্যে ৭জন বিএনপির, ৫জন জামায়াতে ইসলামীর এবং একজন স্বতন্ত্র এমপি।

তালিকায় থাকা মন্ত্রিসভার তিন সদস্য হলেন– বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

মেটার ‘পার্টনার মনিটাইজেশন পলিসি’ বা অংশীদার মনিটাইজেশন নীতি অনুযায়ী, বর্তমান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক প্রার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারি সংস্থা মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য নয়। তবে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান বলছে, এই নীতি সব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তত দুটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরও মনিটাইজেশন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজীব প্রধানের অ্যাকাউন্ট ৪ ফেব্রুয়ারি এবং চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস কে ফরিদ আহমেদের অ্যাকাউন্ট ১১ ফেব্রুয়ারি (ভোটের ঠিক আগের দিন) মেটার এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তালিকায় থাকা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুসারী পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের। তাঁর ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ১৭ লাখের বেশি। পেজটির পরিচিতিতে তাঁকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রণাধীন বলেও ‘পেজ ট্রান্সপারেন্সি’ তথ্য থেকে জানা যায়।

‘হোয়াট টু ফিক্স’-এর আর্কাইভ অনুযায়ী, শফিকুল ইসলামের পেজটি ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে মেটার ইন-স্ট্রিম অ্যাড প্রোগ্রামের অংশ ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে রিলস-এর বিজ্ঞাপন চালু করা হয় এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পেজটি ফেসবুকের কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামে যোগ দেয়। ডিসমিসল্যাবের পর্যালোচনাকালে অ্যাকাউন্টটি মনিটাইজেশনে সক্রিয় ছিল।

ডিসমিসল্যাব শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে তার ভেরিফায়েড পেজে মনিটাইজেশন সক্রিয় আছে কি না, তা জানতে চায়। তিনি জানান, তার আইটি টিম অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করার কারণে তাকে বিষয়টি চেক করে দেখতে হবে। তিনি আরও জানান, তার জানামতে তিনি ফেসবুক থেকে কোনো আয় করেন না।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর বিষয়টি উঠে এসেছে। ‘হোয়াট টু ফিক্স’-এর আর্কাইভ অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মেটার কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয় এবং ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল বাদ পড়ে। ডিসমিসল্যাবের পর্যালোচনাকালে অ্যাকাউন্টটি মেটার বর্তমান পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় আর ছিল না, যা নির্দেশ করে এটি আর মনিটাইজেশনে সক্রিয় নেই। তবে হাসনাতের সাথে সম্পৃক্ত অন্য দুটি পেজ মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় রয়ে গেছে।

এর একটি হলো–নির্বাচনী প্রচারের পেজ ‘হাসনাত ফর কুমিল্লা-৪’, যেটির ফলোয়ার সংখ্যা ১২ লাখ। এই পেজ ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল তালিকায় যুক্ত হয়। নির্বাচনী প্রচারের সময় এই পেজ থেকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনও চালানো হয়েছিল। হাসনাতের সাথে যুক্ত আরেকটি ভেরিফায়েড পেজ ‘জবাবদিহিতা’, যা চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল তালিকায় যুক্ত হয়। ৩ লাখের বেশি ফলোয়ার থাকা এই পেজ হাসনাতের নির্বাচনী এলাকার আর্থিক বরাদ্দ ও ব্যয়-সংক্রান্ত পোস্ট পাবলিশ করতে ব্যবহার করা হয়।

এই তথ্যগুলো বলছে, হাসনাতের ফেসবুক থেকে আয়ের কথা প্রকাশ্যে আসার পর মেটা তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে মনিটাইজেশন সরিয়ে নিলেও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত অন্য পেজগুলো মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য হিসেবে রয়ে গেছে।

ডিসমিসল্যাব হাসনাত আব্দুল্লাহর এক সহযোগীর মাধ্যমে এবং সরাসরি তার ফোনে প্রশ্ন পাঠিয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ডিসমিসল্যাব সংসদ সদস্যদের ১৩টি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখেছে। ১৩টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১২টির ভিডিওতেই বিজ্ঞাপন পাওয়া গেছে।

ডিসমিসল্যাবের গবেষণা দল অ্যাকাউন্টগুলোর ভিডিও ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করে এমন কিছু ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে, যেখানে ভিডিওর আগে, মাঝে বা নিচে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। যেহেতু দর্শকের অবস্থান, ডিভাইস, সময় ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনের প্রদর্শন ভিন্ন হতে পারে, তাই গবেষণা দল এই বিজ্ঞাপনগুলো থেকে অ্যাকাউন্টগুলো কত টাকা আয় করছে, তার প্রমাণ হিসেবে দেখেনি। মেটার অ্যাডভার্টাইজিং সিস্টেম এই মনিটাইজড অ্যাকাউন্টগুলোর কনটেন্টে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন পরিবেশন করছে কি না, তার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বিজ্ঞাপনগুলো বিভিন্ন ফরম্যাটে দেখা গেছে। কিছু ছিল ‘মিড-রোল অ্যাড’, যা ভিডিও চলার মাঝে দেখায়। অন্যগুলো ভিডিওর নিচে সিঙ্গেল-ইমেজ (একক ছবি) বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখা গেছে।

উদাহরণস্বরূপ, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর পোস্ট করা একটি ভিডিওর নিচে হরলিক্স-এর বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। যশোর-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর একটি ভিডিওতে রুচি সসের বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।

ডিসমিসল্যাব নীলফামারী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সাত্তারের একটি ভিডিওর মাঝে সেনসোডাইন টুথপেস্টের বিজ্ঞাপন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের ভিডিওতে সানসিল্ক শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন চলতে দেখেছে। এই নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলো সম্ভবত দর্শকের অবস্থান বা ব্রাউজিং আচরণের ওপর ভিত্তি করে মেটার অ্যালগরিদম দ্বারা নির্ধারিত হয়েছিল, যার অর্থ–একই ভিডিও বিভিন্ন দর্শককে ভিন্ন ভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে।

ডিসমিসল্যাব মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় বাংলাদেশি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নামে খোলা অন্তত ২২টি আনভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টও খুঁজে পেয়েছে।

যেহেতু এই অ্যাকাউন্টগুলো ভেরিফায়েড নয়, তাই ডিসমিসল্যাব এগুলোকে ১৩টি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করেছে। তবে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে এমন কিছু সূচক ছিল, যা নির্দেশ করে সেগুলো রাজনীতিকদের বা তাদের প্রতিনিধিত্ব করে। নয়টি অ্যাকাউন্টের ক্যাটাগরি ‘রাজনীতিক’ বা ‘রাজনৈতিক দল’ হিসেবে উল্লেখ ছিল। এর সবগুলোই নিয়মিত সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডের কনটেন্ট পোস্ট করত এবং ১০টি অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন (নির্বাচনী প্রচারসহ) চালানো হয়েছিল।

এর মধ্যে ১৩টি অ্যাকাউন্ট বিএনপির সংসদ সদস্যদের নামে খোলা হয়েছিল। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামে একটি প্রোফাইল ছিল, যার ফলোয়ার সংখ্যা ৪৪ হাজারের বেশি।

ডিসমিসল্যাব পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলমের নামে দুটি আনভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট (একটি প্রোফাইল ও একটি পেজ) খুঁজে পেয়েছে। তার নামে কোনো ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল পাওয়া যায়নি। প্রোফাইলটিতে ৪৬ হাজার এবং পেজটিতে ৫৭ হাজার ফলোয়ার ছিল। দুটি অ্যাকাউন্টই মেটার কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কিছু আনভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট নির্বাচনের পর মেটার কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামে যোগ দিয়েছে। গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম এবং নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর ফেসবুক পেজ যথাক্রমে চলতি বছরের ১২ মার্চ ও ২০ এপ্রিল যুক্ত হয়। দুটি তারিখই তারা সংসদ সদস্য হওয়ার পরের। রফিকুল ইসলামের পেজ থেকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী প্রচারের সময় ২৩টি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনও চালানো হয়েছিল।

ডিসমিসল্যাব পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের নামে খোলা আটটি অ্যাকাউন্ট পেয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের জহিরুল ইসলাম, ফরিদপুর-১ আসনের মো. ইলিয়াছ মোল্লা এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের মো. আবু তালেবের নামে থাকা অ্যাকাউন্টগুলো থেকে নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছিল। কুষ্টিয়া-৩ আসনের মুফতি আমির হামজার নামে থাকা আরেকটি অ্যাকাউন্টে ৮ লাখের বেশি ফলোয়ার ছিল।

ডিসমিসল্যাব আনভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলোকে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা রাখলেও ডিসমিসল্যাব কর্তৃক পর্যালোচিত রেকর্ড অনুযায়ী–এই ২২টি আনভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের সবকটিই নির্বাচনের সময় নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত তথ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী, প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা তাদের পক্ষে প্রচারকারী ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন, তবে ডিজিটাল প্রচার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্ল্যাটফর্মের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি এবং ইমেইল অ্যাড্রেসসহ শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। একই নিয়ম অনুযায়ী, কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, বুস্টিং এবং স্পনসরশিপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয় রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

‘হোয়াট টু ফিক্স’-এর নির্বাহী পরিচালক ভিক্টোরিয়া রিও বলেন, মনিটাইজেশনের জন্য অ্যাকাউন্ট অনুমোদন করার আগে মেটার আরও কঠোর পরীক্ষা চালানো উচিত, বিশেষ করে যখন কোনো অ্যাকাউন্ট রাজনীতিক, রাজনৈতিক দল বা সরকারি কর্মকর্তার সাথে যুক্ত থাকার লক্ষণ দেখায়।

রিও ডিসমিসল্যাবকে বলেন, “মেটার বিজনেস পার্টনার যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি আমূল উন্নত করা উচিত।”

সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের নামে খোলা আনভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য হওয়া উচিত কি না–জানতে চাইলে রিও বলেন, মেটার উচিত অ্যাকাউন্টের চারপাশের সামগ্রিক প্রমাণগুলো বিবেচনা করা।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি সম্ভাব্য ‘স্বার্থের সংঘাত’ (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) তৈরি করে। কারণ, যারা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ বা এ-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারেন, তারাই যদি সেই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পান, তবে জবাবদিহি ও সুশাসনের প্রশ্ন ওঠে।

ডিসমিসল্যাব এ বিষয়ে মেটার কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.