সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘জুলাইয়ের গাদ্দার কার্ড’ নামে একটা কার্ড করতে চান। এই কার্ডের নানা শাখা প্রশাখা থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেছেন, আমাদেরও তো একটা কার্ড চালু করতে হবে। সেই সম্মিলিত কার্ডের নাম আমরা দিবো ‘জুলাইয়ের গাদ্দার কার্ড’। এই কার্ডের কয়েকটা শাখা-প্রশাখা হবে। একটা কার্ড হবে সন্ত্রাসী কার্ড—সেটা যুবদলকে দিতে চাই। একটা দিবো টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজির কার্ড—সেটা দিবো ছাত্রদলকে। আমরা আরেকটা কার্ড করবো ‘ভারতীয় গাদ্দার কার্ড’ বা ‘ভারতীয় দালাল কার্ড’—সেটা দিবো বিএনপিকে।”
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা এনসিপি আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা সালাহউদ্দিন আহমেদকে প্রশ্ন করতে চাই—যেই আদেশের বলে একই সাথে গণভোট হলো, নির্বাচন হলো, সেই আদেশের বলে নির্বাচন বৈধ হয় আর গণভোট অবৈধ হয় কী করে? এক মায়ের পেট থেকে দুই জমজ সন্তান এসেছে; এক সন্তান বৈধ আরেকটা অবৈধ—এটা তো হতে পারে না। এই গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে আপনি সালাহউদ্দিন অবৈধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জনাব তারেক রহমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির সরকার অবৈধ সরকার।”
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। সংবিধান সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ৫ তারিখ থেকে ৮ তারিখ কোনো সরকার ছিল না, এই সময়টাকে আপনি সংবিধানের কোন ধারায় ব্যাখ্যা করবেন? সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকার করার কোনো বিধান ছিল না, কোন সংবিধানের বলে আপনি সেটাকে ব্যাখ্যায় নিয়ে আসবেন? বরং একথাই সত্য যে, বাংলাদেশে ৫ আগস্টের পরে একটা পর্যায়ে আমরা ইনস্টিটিউশনাল ক্রাইসিস (প্রাতিষ্ঠানিক সংকট) পরিস্থিতিতে ছিলাম।”
আখতার হোসেন আরও বলেন, “সংবিধান সংশোধন করে নয়, আমরা সংস্কারের মধ্য দিয়ে এক নতুন সংবিধানের পদযাত্রার কথা বলেছিলাম। আমাদের সেই পদযাত্রায় একটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের সত্তর ভাগ মানুষ যখন গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তখন সেই গণভোটকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে তারপরে অন্য সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হবে।”
বোদা উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব শিশির আসাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত এক বছরে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন দুর্নীতির সমালোচনা করে বলেন, “এত কষ্ট করে আবু সাঈদ রক্ত দিয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম গত ৫ মাসে সব ঠিক হয়ে যাবে। যে মানুষগুলো ১৭ বছর এত নিপীড়িত ছিল, সেই মানুষগুলোর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে বাংলাদেশটা আমরা ঠিক করব। কিন্তু তার বদলে যে গরীব মানুষ সারাদিনে ১০০-২০০ টাকা ইনকাম করে, তার পকেটের ট্যাক্সের টাকা কেটে নিয়ে গত একবছরে চাঁদাবাজি করে কোটিপতি হয়েছে অনেকেই। যে মানুষটা কবরে চলে গিয়েছে, পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব বিদ্যমান নাই, সেই মানুষটার নামেও তারা কৃষি কার্ড বিতরণ করছে।”
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব দেলদার রহমান দিলুসহ এনসিপির স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় এনসিপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।