Sylhet Today 24 PRINT

কাঁদলেন ফখরুল

দল ও সরকারের শেষ মিটিংয়ে অংশ নিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৯ আগস্ট, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) বৈঠক এবং বিকেলে সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মিটিং। একইদিনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় শেষবারের মতো অংশ নিলেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকের চোখে বুধবারের এই ব্যস্ত দিনটি ছিল অন্য রকম—দল ও সরকারের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ পথচলার শেষ অধ্যায় বা শেষ বৈঠক। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঠিক একদিন আগে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে এটাই ছিল তার শেষ কর্মদিবসের আনুষ্ঠানিকতা।

জানা গেছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিকেলে সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠকেও তাকে দেখা যায়। দলীয় রাজনীতির সক্রিয় মঞ্চ থেকে বিদায়বেলায় শেষবারের মতো বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কেঁদে ফেলেন তিনি। নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জানা যায়, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান।

রাজনীতিতে বিদায় কখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় আসে, আবার কখনো আসে দায়িত্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। মির্জা ফখরুলের ক্ষেত্রেও বুধবারের দিনটি তেমনই এক সন্ধিক্ষণ। দলীয় মহাসচিবের পরিচয়ের বদলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক পরিচয় সামনে আসার কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা এখন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোটের মুখোমুখি হবেন মির্জা ফখরুল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। এদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।

ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সংসদে দলীয় শক্তির হিসাব-নিকাশে মির্জা ফখরুলই বিজয়ী হচ্ছেন। প্রাথমিক সমীকরণে মির্জা ফখরুলের পক্ষে ২৪৭ এবং অলি আহমদের পক্ষে ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই বাংলাদেশের রাজনীতির পরিচিত মুখ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে খুলে যাবে বঙ্গভবনের দরজা।

গত ১৩ আগস্ট বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে। এরপর তার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়া এবং দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে। ফলে বুধবারের বৈঠক দুটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে আবেগ ও কৌতূহল। দলের অনেকের কাছেই এটি ছিল দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একই রাজনৈতিক পরিসরে শেষ বৈঠক। অনেকের মতে, বৈঠক শেষ করে যখন মির্জা ফখরুল সংসদ ভবন ছাড়ছেন, তখন এটি কেবল একটি কর্মদিবসের সমাপ্তি ছিল না; বরং ছিল মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের একটি অধ্যায়ের শেষ দৃশ্য। বৃহস্পতিবার থেকে তিনি আরেক অধ্যায়ের শুরু করতে যাচ্ছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তার সুচিন্তিত বক্তব্য ও শান্ত রাজনৈতিক কৌশল দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মহলে তাকে একটি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার সমন্বয়ক ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.