Sylhet Today 24 PRINT

গণসমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করল রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৩ আগস্ট, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী গণসমাবেশ করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এজন্য তারা পুলিশের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না জানিয়ে পুলিশ গণসমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এর প্রতিবাদে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন রাজনৈতিক দলটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম অভিযোগ করে বলছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী কায়দায় এই গণসমাবেশ বাতিল করেছে।

রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই গণসমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। সমাবেশের যৌথ আয়োজক ছিলেন অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। তবে ২০ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার প্রতিবাদে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে দেশের অবস্থা দুর্বিষহ। সংকট মোকাবিলা করতে, দেশ বাঁচাতে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি এবং পাচার করা ও অবৈধ অর্থ উদ্ধার করে প্রান্তিক মানুষকে সহজ শর্তে পুঁজি দেওয়ার বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবিতে এই পূর্বঘোষিত গণসমাবেশ ছিল। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা হয়। ১০ দিন আগেই ডিএমপিকে নিরাপত্তা বিধানের জন্য লিখিত অনুরোধ জানানো হয়; কিন্তু দুঃখজনকভাবে ডিএমপি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই শেষ মুহূর্তে এসে এই সমাবেশ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হলো না বলে জানায়।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এসে প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে গণসমাবেশ অনুমতি না দেওয়া সরকারের মধ্যে অন্তর্নিহিত পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের পক্ষে স্বৈরাচারী মানসিকতা, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক সংস্কারবিরোধী এবং বাক্‌স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানেরই স্পষ্ট প্রমাণ।

দায়ীদের বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের আলটিমেটামসহ সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা জানান হাসনাত কাইয়ূম। দাবিগুলো হলো এক. গণসমাবেশ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত যদি পুলিশের একক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে যুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত বিচার করতে হবে। আর এটি যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকারকে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

দুই. ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে প্রস্তাবিত ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারপূর্বক প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের পুঁজি প্রদান–সংক্রান্ত বিশেষ আইন’-এর খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। জাতীয় স্বার্থে স্পিকারকে সেটি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিন. অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রশাসন ও সরকারের এই অগণতান্ত্রিক ও বাক্‌স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে দেশের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে সোচ্চার হওয়া এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. নজরুল হক, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক রাশিদা বেগম, বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য্য, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলাম ফরিদ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

‘রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংস্কার’ শীর্ষক এই গণসমাবেশের অনুমতি বাতিলের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (অপারেশনস–২) মাহবুব হোসেন কাজল গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনটি সংগঠনের যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করার কথা তাদের বলা হয়। এই সংগঠন তিনটির মধ্যে অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশ নামে সংগঠনটির নামে শাহবাগ থানায় মামলা রয়েছে। যার কারণে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.