সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা প্রদান এবং তাঁর মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্য নিশ্চিত করতে না পারায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, "মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানজনক দাফন নিশ্চিত করতে না পারা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা।"
তারা অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জামায়াত-শিবিরের আপত্তির মুখে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে পুলিশ লাইনে গোপনে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
কেন রাষ্ট্র একজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর আনুষ্ঠানিকতা করতে পারেনি এবং তাঁর মরদেহের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন নিশ্চিত করতে পারেনি, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর পারিবারিক কবরস্থানে খোড়া কবর স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ভরাট করে দেয়। পরবর্তীতে শেষ পর্যন্ত রাতের অন্ধকারে মোবাইলের আলোয় তাঁর মেয়ে ও দুই বোনকে কবর খুঁড়তে হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, "এ দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য লজ্জার।"
সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুব ইউনিয়ন নেতারা বলেন, "বর্তমান বিএনপি সরকার নিজেদের 'মুক্তিযোদ্ধাদের দল' হিসেবে দাবি করলেও, তাদের শাসনামলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এমন অপমান ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে হলো কেন? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারের বিষয়, নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষার বাস্তব দায়িত্বও সরকারের রয়েছে?"
বিবৃতিতে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বেশ কিছু জোর দাবি জানানো হয়:
১. বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর ভরাট ও দাফনে বাধাদানকারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা তদন্ত করে এই রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার সাথে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগ্রহ নয়; এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। দেশের সব বীর মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মৃত্যুর পর সম্মানজনক দাফন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।