Sylhet Today 24 PRINT

এবার জাসদকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান কর্ণেল তাহের কন্যা জয়ার

সিলেট টুডে ডেস্ক |  ০৮ মে, ২০১৬

বিভক্ত হয়ে পড়া জাসদকে এবার ঐক্যবদ্ধের আহবান জানিয়েছেন কর্ণেল তাহেরের মেয়ে জয়া তাহের।

গত কাউন্সিলে বিভক্ত হয়ে পড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ। অনেকবার নেতৃবৃন্দ ঐক্যের জন্যে বসলেও কার্যত কোন ফল আসেনি। বিভক্তির পর কর্ণেল তাহেরের স্ত্রী লুতফা তাহের দলকে ঐক্যবদ্ধের উদ্যোগ নেন। মায়ের এই উদ্যোগে সাড়া দিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তাহের কন্যা জয়া।

নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধের আহবান জানিয়ে তিনি সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকম-এ একটি বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

বিবৃতিটি হুবহু প্রকাশ করা হল-

 

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর উৎপত্তি হঠাৎ করে হয়নি। ১৯৭১ সালে এর মুক্তিযুদ্ধের যে জাগরন গ্রামের কৃষান-কৃষাণী, ব্যারাকের সৈনিক আর বিভিন্ন বিদ্যাপিঠের ছাত্রছাত্রী তথা সমগ্র মুক্তিকামী বাঙালি কে এক জায়গায় নিয়ে এসেছিলো, সেই মৈত্রী আর উজ্জীবিত জনতাকে সাথে নিয়ে সবার জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মাণের অভিপ্রায়ে, রণাঙ্গনের অসম সাহসী একদল বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে ১৯৭২ সালের ৩১ শে অক্টোবর জাসদের আত্মপ্রকাশ। জাসদের বৈপ্লবিক ইতিহাস, স্বতন্ত্র অবস্থান এবং এদেশের গণমানুষের মুক্তির সংগ্রামে দলের নেতা-কর্মীদের নির্মোহ আত্মত্যাগ এই দলকে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও তার ভবিষ্যতের সাথে অবিচ্ছেদ বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিনাশের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্র যখন দক্ষিনপন্থীদের হাতে বিপর্যস্ত হচ্ছিল, তখন জাসদই রাজনৈতিক এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যা সরাসরি প্রতিকৃয়া প্রকাশ করেছিল। কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার গণ অভ্যুত্থান অল্প সময়ের জন্য হলেও উপনিবেশ উত্তরকালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথমবারের মত রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে পুঁজিপতিদের সরিয়ে দিয়েছিল। আমরা জানি সেই বিপ্লব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তারপর দুঃখজনক ভাবে প্রত্যক্ষ করেছি যে জিয়া ও এরশাদের সামরিক সরকারের সময়ে জাসদের বিভক্তি।


কিন্তু এতো ঝড়ের পরেও ১৯৯০ এর গণ অভ্যুত্থান জাসদের তারুণ্য কি রাজপথ কাঁপিয়ে তুলে নি? চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটে ফ্যাসিস্ট শিবিরের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা কি প্রতিরোধের দুর্গ রচনা করেনি? কর্নেল তাহের, কাজী আরেফ, ডাক্তার মিলন সহ শত সহস্র প্রাণ, যুগে যুগে জাসদের জন্য বাংলাদেশের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকেনি? 
এই প্রেরণার উৎস থেকেই আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই যে, জাসদ শুধুমাত্র ইতিহাসের বিষয় না, বরং জাসদের বৈপ্লবিক ইতিহাস আমাদের দেখায় গণ মানুষের রাষ্ট্রের গঠনের প্রশ্নে জাসদের রাজনীতির অপরিহার্যতা। 


আমরা এমন একটা সময় পার করছি যখন একদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার, আদালতে তাহের হত্যা মামলার রায়, যুদ্ধাপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, মৌলবাদিদের উত্থান, একের পর এক শিক্ষক, মুক্তমনের চিন্তাবিদ এবং মেহনতি মানুষের হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি একটা নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বিরাজনৈতিকিকরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক প্রগতিশীল শক্তির সীমাবদ্ধতায় গণমুখী রাজনীতির প্রশ্নে পুরো রাজনীতি হয়ে গেছে চরম ভাবে অসংগঠিত। কিন্তু এই সময়ে জাসদের সর্বশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে মাঠ পর্যায়ের জাসদ কর্মীদের বিপুল উপস্থিতি আমাদেরকে সেই আলোর বার্তাই নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারপর আমরা দেখেছি কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনভিপ্রেত ঘটনা প্রবাহ সারা দেশের অগণিত কর্মী ও সমর্থকদের মনে গভীর হতাশার জন্ম দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক বিষয়। যে নেতৃবৃন্দ সকল প্রতিকূলতার সময়ও এক কাতারে থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদেরকে উজ্জীবিত করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এখন তারা একটি কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পৃথক অবস্থান নিয়েছেন। যা আমাদের সবার জন্যই অনাকাংখিত ও মর্ম বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


এই প্রেক্ষিতে কর্নেল তাহেরের সহধর্মিনী, আমার মা লুৎফা তাহের জাসদ নেতৃবৃন্দের প্রতি ঐক্য প্রতিষ্ঠার আন্তরিক আহবান জানিয়েছেন। আমরা দেখতে পেয়েছি কি দারুণভাবে সারাদেশ থেকে জাসদের ঐক্য প্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের আমার মায়ের ডাকে সাড়া দিতে। এরই মধ্যে নেতৃবৃন্দ ঐক্যের লক্ষ্যে একাধিকবার একসাথে বসলেও কার্যতঃ কোন শুভ ফল আসেনি। 


কর্নেল তাহের ও হাজার হাজার শহীদ সাথীর স্বপ্নে গড়া এই সংগঠন। তারা একটি নতুন শোষণ মুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন । কর্নেল তাহেরের তিনি তার শেষ চিঠীতেও বলে গিয়েছিলেন “নীতু, যীশু ও মিশুর কথা_ সবার কথা মনে পড়ে। তাদের জন্য অর্থ-সম্পদ কিছুই আমি রেখে যাইনি। কিন্তু আমার গোটা জাতি রয়েছে তাদের জন্য। আমরা দেখেছি শত-সহস্র উলঙ্গ মায়া-মমতা-ভালোবাসা-বঞ্চিত শিশু। তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় আমরা গড়তে চেয়েছি।“

১৯৭৬ সনের ২১শে জুলাই কর্নেল তাহের ফাঁসির মঞ্চে জীবন উৎসর্গ করে তার দলের প্রতি, তার সহযোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য প্রদর্শন করে গেছেন। এই জাসদকে বৃহত্তর পরিবারের অংশিদার করেই আমাদে বেড়ে উঠা, আমাদের সব স্বপ্ন গাঁথা। তাই এর ভাঙ্গনে আপনাদের মতো আমাদের জীবনটাও উলোট পালট হয়ে যায় বার বার। 

গত কাউন্সিল অধিবেশনের পর থেকে পেয়েছি প্রচুর চিঠি, আপনারা জানিয়েছেন আপনাদের হতাশার কথা, কষ্টের কথা, মফস্বল শহরে নানান প্রতিকুলতার মাঝেও তিল তিল করে সংগঠন গড়ে তোলার সংগ্রামের কথা, শহীদের আত্মত্যাগের কথা। আর নেতৃবৃন্দের প্রতি ঐক্য প্রতিষ্ঠার আন্তরিক আহবান জানিয়ে যাচ্ছেন বার বার। 
নেতৃবৃন্দ কি এই আহবানে সাড়া দেবেন না? আমরা কি আবারো এক বৃহত্তর জাসদ পরিবার হইয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো না? 


তাই শহীদ তাহেরের মেয়ে হয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মারাত্মক হতাশা দেখে বিবেকের তাড়না থেকে জাসদের সম্মানিত কাউন্সিলরদের এই সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি। আপনাদের যদি আমার মায়ের ঐক্য প্রতিষ্ঠার ডাক অর্থবহ ও জরুরী মনে হয়, এই প্রচেষ্টায় আপনাদের যদি সমর্থন থাকে, তবে বিনীতভাবে নেতৃবৃন্দের কাছে লেখা ঐক্যের আবদেনপত্রে আপনার স্বাক্ষর প্রদান করবার জন্য অনুরোধ করছি। 

জয় আমাদের হবেই,আপানাদের ধন্যবাদ। 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.