সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৭ অক্টোবর, ২০১৬
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী ও যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমির হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেছেন মকবুল আহমাদ। একই সঙ্গে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শাস্তি কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ড কার্যকরে সরকার প্রতিহিংসার আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (১৭ অক্টোবর) জামায়াতের প্রচার বিভাগের স্টাফ এম আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মকবুল আহমাদের লিখিত বক্তব্য গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
এদিন রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতের তৃতীয় আমির হিসেবে মকবুল আহমাদকে শপথ পাঠ করান দলটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম মাসুম।
মকবুল আহমাদের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে আমিরবিহীন থাকা জামায়াতে ইসলামী একজন আমির পেল। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সাবেক আমির যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের পর মকবুল এ দায়িত্ব পেলেন। তিনি ছয় বছর ধরে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানে মকবুল আহমাদ বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সকল জনগণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অকৃত্রিম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি তাদের কথা আজ গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।”
মকবুল আরও বলেন, “বিশেষভাবে স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি উসমানীসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল অবিসংবাদিত নেতাদের আমি স্বশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি।”
জামায়াতের এ আমির বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করলেও একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদেরও স্মরণ করে বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি ইনসাফপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণের জন্য আজীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আর একারণে বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিহিংসামূলকভাবে তাদের পাঁচজনকে ফাঁসির কাস্টে ঝুলিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে।”
২০১০ সালের ২৯ জুন দলের নিজামী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মকবুল। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড গত ১০ মে কার্যকর হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমও যুদ্ধাপরাধের দণ্ড ভোগের মধ্যে মারা যান।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমির মকবুলই সেক্রেটারি জেনারেলসহ অন্য পদগুলোতে নেতাদের মনোনীত করবেন। বর্তমানে সেক্রেটারি জেনারেলের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছেন শফিকুর রহমান। আমির নিজামীর মতো সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছেন গত বছরের ২২ নভেম্বর।