সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৮ জুলাই, ২০১৭
চিকিৎসার জন্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন গমনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কর্তৃক তার দেশে ফিরে আসা নিয়ে সংশয় প্রকাশের পর বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া অবশ্যই ফিরবেন। দেশে ফিরে তিনি আগামি দিনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্বও দেবেন।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে প্রসঙ্গ তোলেন একজন মন্ত্রী। এ সময় ওই মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘দেখেন উনি (খালেদা জিয়া) ফিরে আসেন কিনা?’
একই দিন সচিবালয়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার মতো, ওই ওয়ান ইলেভেনের সময় সাহস করে খালেদা জিয়া দেশে ফিরে আসবেন কিনা, মামলার ভয়ে আবার সময় বর্ধিত হবে কিনা, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।’
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমন কথা বলা তার উচিত হয়নি। ২০১৫ সালে যখন খালেদা বিদেশ গিয়েছিলেন, তখনও আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিলেন, তিনি আসবেন না। কিন্তু তিনি ফিরেছিলেন। এবারও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশে ফিরবেন।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আওয়ামী লীগের স্বরূপ মিথ্যা দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘গণমানুষের নেত্রী খালেদা জিয়া আপোষহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনে তিনি এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। এখন তো ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে। ফলে এই সময়ে তিনি দেশ ও জনগণকে ফেলে সেখানে থাকবেন, এটা বিশ্বাস করা যায় না।’
রিজভী বলেন, ‘যে নেত্রী শত-শত নির্যাতনের মধ্যে লড়াই করছেন, তিনি ফিরে আসবেন না, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তিনি অবশ্যই তার চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরবেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন।’
উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্য সফরে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার লন্ডন যাওয়ার দিনে বিমানবন্দরে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে লন্ডনে যাচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি সেখানে তার চোখের ও পায়ের চিকিৎসা করাবেন। চিকিৎসা নিতে কতদিন লাগতে পারে, তা চিকিৎসকরাই ভালো বলতে পারেন।’