Sylhet Today 24 PRINT

টালমাটাল সিলেট আ. লীগে ঐক্য ফেরানোর উদ্যোগ

আজ আসছেন ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ৩০ আগস্ট, ২০১৮

প্রকাশ্যে কোনো বিরোধ ছিলো না। বাহ্যত সব নেতারই একে অপরের সাথে ছিলো আন্তরিক সম্পর্ক। এসব দেখিয়ে দাবি করা হতো- সিলেট আওয়ামী লীগের কোনো বিরোধ নেই। আওয়ামী লীগ সিলেটে ঐক্যবদ্ধ- এমনটিও দাবি করে আসছেন দলটির সিলেটের একাধিক শীর্ষ নেতা।

তবে এই মুখোশ খসে পড়ে গত সিটি নির্বাচনে। এই নির্বাচনে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পরাজিত হন। অভিযোগ উঠে সিলেটে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরোধের কারণেই সিটি নির্বাচনে পরাজিত হতে হয় কামরানকে। কোনো কোনো নেতার নাম ধরে কামরান বিরোধিতার অভিযোগও ওঠে। দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সিলেটে পরাজয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন- সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণেই হেরেছেন কামরান।

সিটি নির্বাচনের পর থেকেই টালমাটাল হয়ে পড়ে কথিত ঐক্যবদ্ধ সিলেট আওয়ামী লীগ। শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দেখা দেয় পারষ্পারিক অবিশ্বাস।

কেন্দ্রীয় কমিটিও সিলেটের শীর্ষ নেতাদের প্রতি বিরক্ত বলে বিভিন্ন গণামাধ্যমে উঠে আসে। দ্রুতই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনেরও গুঞ্জন উঠে। পদপ্রত্যাশী অনেক নেতা ইতোমধ্যেই পদ পেতে লবিংও শুরু করে দিয়েছেন।

এ অবস্থায় হঠাৎ ঝড়ে টালমাটাল হয়ে পড়া সিলেট আওয়ামী লীগের ঐক্য ফেরাতে আজ বৃগস্পতিবার সিলেট আসছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ দুপুরে তিনি সিলেট আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। তবে মূলত জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেট আওয়ামী লীগকে পুণর্গঠন ও ঐক্য ফেরানোর লক্ষ্যেই এবার ওবায়দুল কাদের সিলেট আসছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সাংগঠনিক গতি বাড়ানোর জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পুরনো কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে আজ নির্দেশনা দিতে পারেন কাদের। । তবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও দুটি কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি পাওয়ার আশায় তৎপরতা শুরু করেছেন ডজন খানেক নেতা।

এছাড়া সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের কারণেই সিলেটের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডও চিন্তিত। দলের সাধারণ সম্পাদকের আগমনকে ঘিরে ক্ষোভে-দুঃখে বিপর্যস্ত দলের ত্যাগী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন, ওবাদুল কাদের তাদের জন্য কি বার্তা নিয়ে আসছেন এ আশায়। সে বার্তায় তারা উজ্জীবিত হবেন এবং জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পালে হাওয়া লাগবে।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সময় আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সভাপতি ও শফিকুর রহমান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা হয় জেলা কমিটি। ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। পাশাপাশি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

সে সময় মহানগরে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সভাপতি ও আসাদ উদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদি এ দুই কমিটির মেয়াদ শেষে আরও প্রায় চার বছর অতিবাহিত হয়েছে।

দলের নেতাকর্মীরা জানান, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের জন্য আওয়ামী লীগের অনক্যৈ দায়ি। দুই মেয়াদে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ সিলেটে যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছে, বিগত যে কোনও সময়ের তুলনায় তা অনেক বেশি। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের ঘরে যে ফল আসার কথা, তা গেছে প্রতিপক্ষের ঘরে। এর কারণ হিসেবে নেতাকর্মীরা দলের অনৈক্য, গ্রুপিং রাজনীতি, উন্নয়নের প্রচারে ব্যর্থ, সাধারণ মানুষ তথা ভোটারের কাছে না যাওয়া, অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে প্রচার বিমূখ থাকা এবং সর্বোপরি বলয়ভিত্তিক রাজনীতির চর্চা করে ত্যাগী, পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে সুবিধাভোগিদের পদ-পদবিতে নিয়ে আসাকে দায়ি করেন। এছাড়া মেয়াদ অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন একই কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি না হওয়ায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হয়নি।

আর এ বিষয়টি খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছেন। যে কারণে জাতীয় শোক দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের আসলেও এ সফরে ভিন্নমাত্রা পাবে বলে তারা আশা করছেন। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কি বার্তা দেন কাদের, তা নিয়েই কৌতুহলী হয়ে আছেন নেতাকর্মীরা।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কমিটি থাকবে কি ভাঙা হবে দলীয়ভাবে এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্তের কথা আমার জানা নেই। তবে শোকসভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের কিছু নির্দেশনা দিয়ে যেতে পারেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে দুপুর ২টায় শোকসভায় উপস্থিত থাকবেন ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ অনেক নেতা। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও দলের যুগ্ম-সম্পাদক, সিলেট-চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গির কবির নানক, এনামুল হক শামীম, সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, দফতর সম্পাদক আব্দুর সোবহান গোলাপসহ অন্য নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

তিনি আরও জানান, শোকসভায় কমিটির ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হবে কিনা তা আমাদের জানা নেই। এটা দলীয় বিষয়। আগস্ট শোকের মাস। সে হিসেবে মাসব্যাপী শোকদিবস পালন চলছে। এখানে নেতারা শোকসভায় আসছেন। অনুষ্ঠান শোক সভাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.