Sylhet Today 24 PRINT

ডেঙ্গু নিধন না হলে মন্ত্রী-এমপি কেউই রেহাই পাবেন না: কাদের

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৬ আগস্ট, ২০১৯

ফাইল ছবি

ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এডিস মশার হাত থেকে বাঁচতে দেশকে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে একযোগে মাঠে নামতে হবে। তা না-হলে মন্ত্রী-এমপি কেউই রেহাই পাবেন না।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মী অনেকের মাঠে না নামার তথ্য তার কাছে রয়েছে উল্লেখ করে কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় দলটির এক বিশেষ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন, ‘ঢাকা সিটিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা যতই মুখে নিয়ন্ত্রণের কথা বলি না কেন, এখনও এটা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বাস্তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এডিস মশা ভয়ঙ্কর। এই এডিস মশা কারও চেহারার দিকে তাকায় না, আপনি কাউন্সিলর, আপনি কি নেতা, আপনি কি মন্ত্রী, এমপি, মেয়র কোনও দিকেই তাকাবে না। এডিস মশা সামনে পেলেই রক্ত খাবে। এমপির রক্ত খাবে, মন্ত্রীর রক্ত খাবে, নেতার রক্ত খাবে, কাউন্সিলরের রক্ত খাবে, কাউকে ছাড়বে না। সাংবাদিকদেরও রেহাই নেই। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে, সাবধান হতে হবে। আমাদের যে করণীয় তা পালন করতে হবে। ‘শেখ হাসিনার নির্দেশ- ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ’, এই কথা শুধু মুখে নয় অ্যাকশনেও বাস্তবায়ন করতে হবে।”

‘১০৯ কাউন্সিলরের মাত্র ১৩ জন কাজ করেছেন। ঢাকার ১০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে কয়জন কাউন্সিলর ও কয়টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মী যথাযথভাবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় মাঠে নেমেছেন?’, এমন প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। অনেকেই রাখেননি বলে পরক্ষণেই তিনি নিজে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি চিহ্নিত করে লজ্জা দিতে চাই না। শুধু বলতে চাই, কমিটমেন্ট থেকে কাজটা করেন। শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে করতে হবে। যারা করেছেন তাদের ধন্যবাদ, আর এই ধন্যবাদ অব্যাহত থাকবে। যারা করেননি নেত্রী বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রোগ্রাম না করলে কিন্তু অপ্রকাশিত থাকবে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে ফটোসেশন করার জন্য এই অভিযান নয়। আমরা দেখতে চাই, ঢাকা সিটির প্রত্যেক ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। নেত্রী এটা জানতে চেয়েছেন। নেত্রী জানতে চেয়েছেন, কয়টা ওয়ার্ডে তার (নেত্রীর) নির্দেশনা পালন হয়েছে। কতজন নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছেন, জানতে চাইলে সভায় ১৩ জন হাত উঁচু করেন। এ সময় কাদের উষ্মা প্রকাশ করেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এই কর্মসূচি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। জনস্বার্থে, দেশের স্বার্থে এবং দলের স্বার্থে নেত্রীর নির্দেশনায় এই কাজটি আমরা করবো। আমরা নামেমাত্র দুই-চার জায়গায় কর্মসূচি পালন করলাম, বেশিরভাগ ওয়ার্ডে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা হলো না, কর্মসূচি পালন হলো না। এই দায়সারা কর্মসূচির কোনও প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, ‘এতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রও বন্ধ হবে না। এডিস মশার উৎসমূল বন্ধ করতে পারবো না। ডেঙ্গু জ্বরের যে ভয়ঙ্কর বিস্তার, এই বিস্তারও আমরা রোধ করতে পারবো না।’

কাদের বলেন, ‘বিশ্বে নোংরা শহরের মধ্যে আমরা চার নম্বরে। তাহলে কেন এডিস মশার প্রজনন হবে না। কেন বংশবিস্তার হবে না। আরও অনেক ভয়ঙ্কর চিকুনগুনিয়ার মতো ব্যাধিতে অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে। ঢাকাকে ক্লিন করতে হবে, ঢাকাকে গ্রিন করতে হবে। আমাদের এবং প্রতিনিধিদের যৌথভাবে মাঠে নামতে হবে।’

‘মিডিয়া না থাকলে ডেঙ্গুকে গুজব বলে চালিয়ে দিতো সরকার’ বিএনপির এমন বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বলবো মিডিয়া না থাকলে বিএনপি যে একটা রাজনৈতিক দল এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো। মিডিয়া না থাকলে বিএনপি যে আছে, এটা বোঝার কোনও উপায় আছে? নির্বাচনে তারা ব্যর্থ, আন্দোলনে তারা ব্যর্থ। এত বড় বন্যা হয়ে গেলো, ছিটেফোটা দু-একটা জায়গায় গিয়ে ফটোসেশন করে শেষ। ডেঙ্গু অভিযানেও তারা নেই তারা শুধু মুখে মুখে আবাসিক প্রতিনিধি পল্টনের অফিসে বসে কথা বলছেন। মিডিয়া না থাকলে আজকে জনগণ কীভাবে বুঝতো এই দল যে আছে?’

বিশেষ সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সব সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ-এর অন্তর্গত সব থানা এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সব দলীয় কাউন্সিলার, আওয়ামী লীগ দলীয় ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত সব সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.