সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | ২৬ আগস্ট, ২০২৫
সিলেটে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। বিভিন্ন সভা সমাবেশে প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন।
প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। সুরমা-কুশিয়ারা তীরবর্তী এই অঞ্চল থেকে বিজয়ী হয়ে অতীতে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।
এবার রাজনীতি ও নির্বাচনী মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থাও নড়বড়ে। ফলে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মুল প্রতিদ্বন্দ্বি একসময়ের জোটসঙ্গী জামায়াত। ইতোমধ্যে আসনটিতে জামায়াতসহ ইসলামী অন্যান্য দল তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বিএনপির একাধিক প্রার্থী কেন্দ্রে লবিং করছেন।
কুশিয়ারা তীরবর্তী আসনটিতে আওয়ামীলীগ ৬ বার, আর ২ বার করে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুইবার বিজয়ী হওয়া ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন।
এ আসনে এবার নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। ইতোমধ্যে প্রবাসী বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জবাসীর সাথে একাধিক মত বিনিময় করেছেন। আনোয়ার হোসাইন আশির দশকের শেষ দিকে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও ছিলেন অগ্রভাগে।
তিনি ১৯৬৫ সালে বিয়ানীবাজারের লাউতা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতার নাম হাজি নসিব আলী এবং মাতার নাম আছিয়া খাতুন। তিনি আব্দুল্লাহ পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। লাউতা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও সরকারি এমসি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে এইএসসি পাস করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত করতেন। তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় গরীবদের মধ্যে ১০/১১ টি বাড়ি নির্মান করে দিয়েছেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করছেন দীর্ঘদিন যাবত। ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী ও মেধাবীদের পড়াশোনার খরচের জন্য দান অব্যাহত রেখেছেন।
আনোয়ার হোসেন যুক্তাযষ্ট্র বিএনপির সর্বশেষ কমিটিতে তিনি সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সবসময় সোচ্ছার ছিলো। এই সময় যে কোন আন্দোলন সংগ্রাম, প্রতিবাদ বিক্ষোভে প্রথম সারিতে ছিলেন আনোয়ার হোসেন। জাতিসংঘ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোয়াইট হাউজসহ যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি।
নানামুখি কর্মকান্ডে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান আনোয়ার হোসেন।
প্রভাবশালী ডেমোক্রেটিক নেতা এবং এইট কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট এর কংগ্রেসম্যান, ইউএস হাউজ অব রিপ্রেজেনটেভির মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিজের সাথে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ-আমেরিকান ডেমোক্রেকি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সবার নজর কাড়েন তিনি। পরবর্তীতে নিজের দক্ষতায় হেকিম জেফরিজের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি পান।
নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান জনপ্রিয় মেয়র এরিক এডামস বরো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ক্যাম্পেইনের সাথে যুক্ত ছিলেন আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ কমিউনিটি সাথে এরিক এডামসকে পরিচিত করতে দারুন ভূমিকা রাখেন আনোয়ার হোসেন।
পাশাপাশি বাংলাদেশী কমিউনিটিকে নানাভাবে পাশে থেকে কমিউনিটি বিনির্মানে কাজ করছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রে বেশ আলোচিত বিয়ানী সমিতির একাধিকবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অম্রলো সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনেরও একাধিককবার সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্পোর্টস অব আমেরিকার সাধারণ সম্পাদিক নির্বাচিত হয়েছেন। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ ছিলো যে মাঠে বিশ্বনন্দিত পেলে এবং জার্মানির বেকেন বাওয়াররা মাঠ মাতিয়েছেন সেই নিউইয়র্কের ডাউনিং স্টেডিয়ামে বাংলাদেশীদের জন্য বাংলাদেশ লিগের মিলেনিয়াম গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বেশ সাড়া ফেলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পেন্ডামিকের আগে বাংলাদেশী কমউিনিটির শিক্ষার্থীদের অনুপ্রানিত করতে স্টুডেন্ট একাডেমী এচিভমেন্ট এওয়ার্ড নামে একটি আলোচিত অনুষ্ঠান করতেন প্রতিবছর। যেসব স্টুডেন্ট অসাধারণ রেজাল্ট করতেন তাদের সম্মাননা দেয়া হতো এই অনুষ্ঠানে।
যুুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসাা পেয়েছেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় পিছিয়ে পড়া মানুষকে নানাভাবে সহযোগীতা করে আসছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য, গৃহহনীদের বাড়ী নির্মান, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা দেয়াসহ আরো নানাভাবে সহযোগিতা করতেন।
তিনি জানান, এবার বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জের মাটি ও মানুষের জন্য কিছু করার জন্য দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। আশাকরি দল মূল্যায়ন করবে।