মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামতে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে এক লাইনম্যানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের অভিযোগও করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বড়লেখা জোনাল অফিস কর্মরত লাইনম্যান কামরুল হাসান গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বড়লেখা প্রেসক্লাবে পাঠানো এক প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কামরুল জানান, গত ১৯ এপ্রিল বড়লেখা উপজেলায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং তার ছিঁড়ে গিয়ে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরদিন ২০ এপ্রিল দুপুরে ফোনে তাকে অফিস থেকে জানানো হয়, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম এলাকায় একটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।
তিনি জানান, ওই সময় তিনি দক্ষিণ শাহবাজপুর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। বিকেলে তারাদরম এলাকায় গিয়ে স্থানীয় একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়ির ছিঁড়ে যাওয়া লাইন মেরামত করেন এবং বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এরপর তিনি অন্যত্র মেরামত কাজে চলে যান।
পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পুনরায় ফোন করে জানান, নির্দিষ্ট বাড়ির সংযোগ এখনও ঠিক হয়নি। এরপর পুনরায় ঘটনাস্থল নিশ্চিত করে তিনি লাইন মেরামত করেন বলে দাবি করেন।
কামরুলের ভাষ্যমতে, সঠিক লোকেশন নির্ধারণে বিলম্ব হওয়ায় লাইন মেরামতে দেরি হয় এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, যে বাড়িতে লাইন ঠিক করা নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে তিনি নাকি অনেক প্রভাবশালী। পরে স্থানীয়ভাবে জেনেছেন ওই ব্যক্তি নাকি সংবাদকর্মী। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেন। এ সংক্রান্ত কিছু অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র বিলম্বে লাইন মেরামতের কারণে আমার বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের মিথ্যা অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করা হচ্ছে। বিভিন্ন অনোইনে নিউজ করানো হচ্ছে।”
এদিকে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তারাদরম গ্রামের বাসিন্দা সামছু মিয়ার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন।
সামছু মিয়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি বিদ্যুৎ নিয়ে কারও কাছে কোনো অভিযোগ দিইনি। ফেসবুকে আমার নাম দেখে আমি অবাক হয়েছি। লাইনম্যান কামরুলের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগও হয়নি।”