সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | ২২ আগস্ট, ২০২৬
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলসাইন্দে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘গ্রামীণ কল্যাণ ফুলসাইন্দ সামাজিক হাসপাতাল ও আঞ্চলিক অফিস’-এর উদ্বোধন হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতাল ও আঞ্চলিক অফিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মঈনউদ্দিন চৌধুরী, খলিল বিন ওয়াহিদ, মেজর, অবসরপ্রাপ্ত, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং খলকুর রহমান, চেয়ারম্যান ৭ নং লক্ষনাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ। এছাড়া ফুলসাইন্দ ও আশপাশের এলাকার জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় সুধীজন এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ফুলসাইন্দ সামাজিক হাসপাতালের অন্যতম লক্ষ্য হলো গোলাপগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহর বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজে প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষায়িত পরামর্শ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ফুলসাইন্দ সামাজিক হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে: নারী ও প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবা; চক্ষু চিকিৎসা; নাক, কান ও গলা (ENT) চিকিৎসা; ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ও পরামর্শ; স্যাটেলাইট স্বাস্থ্যসেবা; বাড়ি-বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা; ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরামর্শ; প্রয়োজনীয় ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্তির সুবিধা।
এছাড়া গ্রামীণ কল্যাণের প্রশিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্য সহকারীরা নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি বা জটিলতা শনাক্ত হলে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সামাজিক হাসপাতালে রেফার করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৭ নং লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ফুলসাইন্দে গ্রামীণ কল্যাণের সামাজিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এই হাসপাতাল চালুর ফলে তাঁর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন গ্রামীণ কল্যাণের সকল কাজে আমার এবং আমার ইউনিয়ের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।
ফুলসাইন্দ সামাজিক হাসপাতালের পাশাপাশি আঞ্চলিক অফিস প্রতিষ্ঠার ফলে সিলেট অঞ্চলে গ্রামীণ কল্যাণের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমন্বয়, তদারকি ও সম্প্রসারণ আরও কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সামাজিক ব্যবসার দর্শনকে সামনে রেখে ১৯৯৬ সাল থেকে গ্রামীণ কল্যাণ দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশের ৩৮টি জেলায় ১৫৩টি কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গ্রামীণ কল্যাণ মনে করে, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা শুধু মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনই নয়, এটি দারিদ্র্য হ্রাস, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল সমাজ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই ফুলসাইন্দ সামাজিক হাসপাতাল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে। গ্রামীণ কল্যাণ ফুলসাইন্দ সামাজিক হাসপাতাল ও আঞ্চলিক অফিসের এই নতুন যাত্রার মাধ্যমে গোলাপগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত, কার্যকর ও জনমুখী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।