সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্কলার্সহোম, টিলাগড় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইংলিশ ডিবেট কম্পিটিশন-২০২৬’। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুটি পৃথক গ্রুপে অংশগ্রহণ করে।
সমসাময়িক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)- কে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপের বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, বিতর্ক শুধু তর্ক করার বিষয় নয়; এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে, অন্যের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং নিজের মতামত আত্মবিশ্বাস ও স্পষ্টতার সঙ্গে প্রকাশ করতে শেখে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিযোগিতার প্রথম গ্রুপে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের বিতর্কের বিষয় ছিল—“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা কমিয়ে দেবে” যুক্তি-পাল্টা যুক্তির পর এ গ্রুপে বিপক্ষ দল বিজয়ী হয়। বিজয়ী দলের সদস্যরা হলো— মুনতাহা হোসাইন, চতুর্থ শ্রেণি, যমুনা শাখা; শোয়াইব আহমদ তাকি, পঞ্চম শ্রেণি, তিস্তা শাখা; এবং দেবনীল সাহা, পঞ্চম শ্রেণি, চিত্রা শাখা। এ গ্রুপে অসাধারণ উপস্থাপনা ও যুক্তিখণ্ডনের দক্ষতার জন্য দেবনীল সাহা ‘সেরা বক্তা’ নির্বাচিত হয়।
প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় গ্রুপে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তাদের বিতর্কের বিষয় ছিল—“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়” এ গ্রুপে পক্ষ দল বিজয়ী হয়। বিজয়ী দলের সদস্যরা হলো— রাদওয়া সুহেদ চৌধুরী, সপ্তম শ্রেণি; সামীহা রামীন, ষষ্ঠ শ্রেণি, ‘এ’ শাখা; এবং সমাদৃতা সিকদার অনন্যা, সপ্তম শ্রেণি। এ গ্রুপে মননশীল বক্তব্য, আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা ও যুক্তির দৃঢ়তার জন্য সামীহা রামীন ‘সেরা বক্তা’ নির্বাচিত হয়।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর সুমিত্রা মজুমদার।
প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ইয়াসমিন জাহান, তানজিলা সুলতানা এবং কুদসিয়া আক্তার। প্রতিযোগীদের যুক্তির স্বচ্ছতা, পাল্টা যুক্তির শক্তি, উপস্থাপনা দক্ষতা, দলগত সমন্বয় এবং প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের সক্ষমতা বিবেচনা করে বিচারকরা মূল্যায়ন করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মমিতা সিনহা। সময় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেন আয়েশা আনোয়ার রাহিমা। প্রতিযোগীদের প্রস্তুতি, বসার ব্যবস্থা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন নন্দিনী রায়, ফাতেহা মান্নান ও রেজওয়ানা হাবিব। স্কোরশিট ও ফলাফল ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন তুহারা নাজ আন্নি ও আয়েশা আনোয়ার রাহিমা।
অনুষ্ঠানস্থলের ব্যানার ও সাজসজ্জায় সহযোগিতা করেন তানজিলা সুলতানা ও বিজয় রায় এবং পুরো আয়োজনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো আলোকচিত্রে ধারণ করেন সুমাইয়া আক্তার চৌধুরী।