সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ জানুয়ারী, ২০১৭
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) চালু রাখার দাবীতে বাংলাদেশ মানব কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাজিম উদ্দিনের পরিচালনায় মানববন্ধন চলাকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গণদাবী ফোরামের সভাপতি আখলাক আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদ ঢাকার কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ.এ.এম শিহাব উদ্দিন, ছাত্র কল্যাণ পরিষদ কুলাউড়ার সভাপতি হোসাইন আহমদ, আওয়ামী ছাত্র পরিষদ সিলেট ল’কলেজ শাখার সহ-সভাপতি আতাউর রহমান রিপন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানব কল্যাণ পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি রকি দেব, সহ সাধারণ সম্পাদক রিপন আহমদ, শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক সারেক আহমদ চৌধুরী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, হৃদয় ঘোষ অনিক, সদস্য নাদিম হোসাইন, ফ্রেন্ডস পাওয়ার পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজীব, দপ্তর সম্পাদক শংকু রায়।
আরো উপস্থিত ছিলেন মামুন, আরাফাত, ফখরুল, সামসাদুর রহমান সাজু, মুহিবুর রহমান, সুমন, তারেক আহমদ জাঙ্গাইল প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) মেধা বিকাশে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। যা বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অথচ শুনা যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই পরীক্ষা বন্ধ হলে নতুন প্রজন্মের মেধা যাচাই ও মূল্যায়নে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তা মেধাবী জাতি গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ৫ বছরের পড়াশুনার চূড়ান্ত মূল্যায়ন পিইসি পরীক্ষার মাধ্যমে। আর এই পরীক্ষা চালুর ফলে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি ও অভিভাবকগণ তাদের সন্তানের লেখাপড়ার বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি হয়, এতে মেধার বিকাশ ঘটছে। এছাড়াও পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সনদ লাভ করায় পড়ালেখায় উৎসাহ বোধ করে এবং পরবর্তী শিক্ষা জীবনে আরো বেশি করে পড়াশুনার অনুপ্রেরণা পায়।
বক্তারা আরো আরো বলেন, পিইসি পরীক্ষা চালু থাকলে সনদপত্র জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে পিইসি পরীক্ষা চালু থাকলে শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মান বৃদ্ধির জন্য বছরের শুরু থেকে পাঠদান কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এই পরীক্ষা বন্ধ করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে না। তাই কিছু সমস্যা থাকলেও দেশ ও জাতির স্বার্থে পিইসি পরীক্ষা চালু রাখার জোর দাবি জানান বক্তাগণ।