সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮
সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দের সাথে সিলেট বিভাগ ক্রাশার মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় চেম্বার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট চেম্বারের সভাপতি জনাব খন্দকার সিপার আহমদ এর সভাপতিত্বে পাথর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জাফলং, লোভাছড়া ও বিছনাকান্দির পাথর কোয়ারিগুলো থেকে উত্তোলিত পাথর সারা দেশের পাথরের চাহিদা পূরণ করছে। সিলেটের পাথরের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা ব্যাপক এবং এ খাত থেকে সরকারেরও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরিত হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি পাথর পরিবহনের ক্ষেত্রে সরকার ৬ চাকার ট্রাকে গাড়ির ওজন সহ ২২ টন ও ১০ চাকার ট্রাকে গাড়ির ওজন সহ ৩০ টন পাথর পরিবহনের বাধ্যবাধকতা করায় পাথর ব্যবসায়ীগণ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পাথরের তুলনায় দেশীয় পাথরের মূল্য প্রতি ফুটে ২৫-৩০ টাকা বেড়ে গেছে। যার ফলে পাথরের ক্রেতা কমে যাওয়ায় এ খাতে জড়িত স্টোন ক্রাশার মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকগণ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তারা আরো বলেন, ওভারলোডের স্কেল শুধুমাত্র সিলেটে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারা পাথর ব্যবসায় সমতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ওভারলোড সংক্রান্ত আইন শুধুমাত্র সিলেটে প্রয়োগ না করে সারাদেশে একসাথে বাস্তবায়নের আহবান জানান।
সভায় পাথর ব্যবসায়ীগণ সিলেটের পাথর শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এবং শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে ৬ চাকার ট্রাকে গাড়ির ওজন সহ ৩২ টন ও ১০ চাকার ট্রাকে গাড়ির ওজন সহ ৪২ টন পাথর বহনের অনুমতি প্রদানের দাবি জানান। এতে পাথর ব্যবসায় সমতা বজায় থাকবে বলে তারা মন্তব্য করেন। সভায় পাথর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি চেম্বার সভাপতির হাতে তুলে দেন।
দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি জনাব খন্দকার সিপার আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, পাথর ব্যবসা সিলেটের অন্যতম একটি প্রধান অর্থকরী খাত। এ খাতের সাথে সিলেটের একটি বিরাট জনগোষ্ঠী জড়িত রয়েছেন। এখানে কয়েক লক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান রয়েছে। তিনি পাথর ব্যবসায়ীদের দাবি মানবিকভাবে বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি জনাব মাসুদ আহমদ চৌধুরী, ধুপাগুল স্টোন ক্রাশার মালিক ও পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মো. নাছির উদ্দিন, সিনিয়র সহ সভাপতি সৈয়দ ছালে আহমদ শাহনাজ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, এয়ারপোর্ট থানা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হক, সহ সভাপতি মো. মঈন উদ্দিন, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জনাব আব্দুল কাদির, জনাব বুলবুল মিয়া, জনাব মো. মোজাম্মেল আলম সাদ্দাম, জনাব মো. তাজুল ইসলাম, জনাব মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।