স্পোর্টস ডেস্ক | ২১ অক্টোবর, ২০১৫
এবারের জাতীয় লীগে দুঃসময় যেন কাটতেই চাইছে না অলক কাপালীর দলের। টেবিলের তলানিতে থেকে এই ম্যাচ শুরু করায় আশা ছিল এক ধাপ উত্তরণের। প্রথম ইনিংসের লীডও স্বপ্নই দেখাচ্ছিল তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বরিশালের বিশাল সংগ্রহের পর বড় রানের টার্গেটে জয় দূরে থাক ড্রও করতে পারল না সিলেট।
লড়াই করেছেন তরুণ জাকির হাসান। এক প্রান্তে আগলে রেখে করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। কিন্তু শেষ বেলায় ১৭ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানকে ফিরতে হয়েছে হারের হতাশা নিয়ে। অফ স্পিনার সোহাগ গাজীর ঘূর্ণিতে দিনের শেষ ওভারে জয় তুলে নিয়েছে বরিশাল।
চতুর্থ ও শেষ দিন সিলেটকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৭ রানে অলআউট করে দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে ১৫৩ রানের জয় পেয়েছে বরিশাল।
মঙ্গলবার বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ২ উইকেটে ৫৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে সিলেট। জয়ের জন্য শেষ দিন তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৯৪ রান। পাহাড়সম এই রান তাড়ার কোনো চেষ্টাই করেনি সিলেট। ম্যাচ বাঁচানোর দিকেই নজর ছিল প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়া দলটির।
দিনের শুরুতেই অভিজ্ঞ রাজিন সালেহকে হারায় সিলেট। তবে চতুর্থ উইকেটে জাকিরের সঙ্গে ১০৪ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন অলক কাপালী। শতরানের এই জুটি গড়তে ৩৭.৪ ওভার খেলেন এই দুই জন।
কাপালীকে (৫৬) ফিরিয়ে সিলেটের প্রতিরোধ ভাঙেন সোহাগ। এরপর রুমান আহমেদ ও রাহাতুল ফেরদৌস দ্রুত ফিরে গেলে টেল এন্ডারদের নিয়ে শুরু হয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাকিরের ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই।
সাদিকুর রহমান ও নাসুম আহমেদ এই লড়াইয়ে কিছুটা সঙ্গ দেন জাকিরকে। থিতু হয়ে সাদিকুর, নাসুমের বিদায়ে চাপ আরও বাড়ে তার ওপর। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি।
১০ নম্বর ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেনের সঙ্গে ১৫.৪ ওভার স্থায়ী আরেকটি জুটি গড়েন জাকির। ২৮ রানের এই জুটিতে ৪০ বল খেলে ১ রান করেন নাজমুল। দিনের একেবারে শেষ দিকে নাজমুলকে বোল্ড করে বরিশালের জয়কে এক উইকেটের ব্যাপারে পরিণত করেন অফ স্পিনার সোহাগ।
সোহাগের পরের ওভারটিই ছিল ম্যাচের শেষ। এই ওভারের দ্বিতীয় বলে খালেদ আহমেদকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন সোহাগ। ১১২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার।
১৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন জাকির। তার ২৯২ বলের দুর্দান্ত ইনিংসটি ২০টি চার সমৃদ্ধ।
দলকে শেষ ওভারে জয় এনে দেওয়া সোহাগ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা সালমান হোসেন যৌথভাবে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল প্রথম ইনিংস: ১৫৫
সিলেট প্রথম ইনিংস: ১৭২
বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৬৪/৭ ইনিংস ঘোষণা
সিলেট দ্বিতীয় ইনিংস: ২৯৭ (ইমতিয়াজ ৩২, সায়েম ৮, জাকির ১৩৭*, রাজিন ৬, কাপালী ৫৬, রুমান ২, ফেরদৌস ৯, সাদিকুর ২১, নাসুম ২১, নাজমুল ১, খালেদ ০; তৌহিদ ৯-০-২৭-১, কবির ৮-১-১৮-০, সোহাগ ৪৭.২-১২-১১২-৫, মনির ২০-৫-৭১-৩, সালেহ ১৪-৪-২৯-১, সালমান ৩-১-১০-০, আল আমিন ১৩-৩-২৭-০ )
ফল: বরিশাল ১৫৩ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: সালমান হোসেন ও সোহাগ গাজী।