ক্রীড়া প্রতিবেদক | ০৭ নভেম্বর, ২০১৫
একটা সময়ে জিম্বাবুয়েকে ধরা হতো বাংলাদেশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি দল হিসেবে। কিন্তু এখন আর সে দিন নেই। বলা যায় হেসেখেলেই তাদের হারাচ্ছে বাংলাদেশ। আর সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আর সর্বশেষ সাক্ষাতের স্মৃতি রোমন্থন করলে বলা যায় বাংলাদেশের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারার কথা নয় জিম্বাবুয়ের!
তবু এটা হয় স্রেফ পরিসংখ্যানের হিসেব। কারণ ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচই নতুন। আর তাই সিরিজটা ভালোভাবে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ; একই ভাবে থাকতে চায় সিরিজ জয়ের ধারায়। জিম্বাবুয়ে তাদের সফর শুরুর একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে দাপুটে এক জয় নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে মাঠেই হবে আসল মোকাবেলা। যদিও এ দলটি ক'দিন আগেই দেশের মাটিতে হেরেছে আইসিসির সহযোগি আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
দেশের মাটিতে সর্বশেষ ৪ সিরিজের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় কোনটিতেই হারে নি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েকে দিয়ে শুরু হয়েছিল সে জয়যাত্রার ইতিহাস। জিম্বাবুয়েকে ৫-০তে হোয়াইটওয়াশ করার পর একে পাকিস্তানকে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ এবং এরপর ভারতের বিপক্ষে ২-১ এ সিরিজ জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয় বাংলাদেশকে হোমগ্রাউণ্ডে অপরাজেয় এক দলে পরিণত করেছে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে ক্রিকেটের ইতিহাস স্মরণ করলে বলা যায়, এ দলের বিপক্ষে ২০০৪ সালের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কোনো সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ সাক্ষাত গত বছরই। যেখানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরেছিল জিম্বাবুয়ে শিবির। ওয়ানডেতে ৫-০, টেস্টে ৩-০। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঐ সফরে বেশ অসহায়ই ছিল ব্রেন্ডন টেইলররা।
তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজটা প্রাপ্তির হতে পারে জিম্বাবুয়ের। তারা একটি ওয়ানডে ম্যাচ জিতলে রেটিং পয়েন্ট বাড়বে তিন। কিন্তু বাংলাদেশ সব ম্যাচ জিতলেও বাড়বে মাত্র এক পয়েন্ট। এছাড়া সব ম্যাচ জিতলেও র্যাংকিংয়েও কোনো পরিবর্তন হবে না। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানটাও খুব বেশি নয়। বাংলাদেশের পাশে যখন জয়ের হার ৫৬.২৫ শতাংশ তখন জিম্বাবুয়ের ৪৩.৭৫।
তাই এই দুই দলের দেখা হওয়া ৬৪ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ৩৬ জয়ের বিপরীতে প্রতিপক্ষ হেসেছে ২৮ বার। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে এখন অনেকেই বড় দল ভাবতে শুরু করেছে। সেই তুলনায় জিম্বাবুয়ে কিছুদিন আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হোম সিরিজ হেরে এসেছে।
২০১৫ সালে ১৫ ওয়ানডের ১০টিতেই হেসেছে বাংলাদেশ। আর মাত্র ৫টিতে হার। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে চলতি বছর ২৬টি একদিনের ম্যাচ খেলে জয়ের দেখা পেয়েছে মাত্র ৭টিতে।
এদিকে এ সিরিজ থেকে র্যাংকিংয়েও কোন প্রাপ্তির হাতছানি নেই স্বাগতিকদের জন্য। পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা তিন হোম সিরিজে জয়ে র্যাংকিংয়ের সাতে বাংলাদেশ। আর প্রতিপক্ষ ১০ নম্বরে। তাতে চ্যালেঞ্জ কমছে না, বরং বাড়ছে। শুক্রবার তেমনটাই বললেন মাশরাফিও, ‘প্রত্যেকটা সিরিজই চ্যালেঞ্জের। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তো আমাদের শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জ।’
স্বাগতিক শিবিরে শংকা রয়েছে পেস আক্রমণ নিয়েও। চলতি বছর প্রায় পুরোটা সময় তিনজন পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে চলতি বছর ওয়ানডেতে চারজন পেসারও খেলিয়েছে বাংলাদেশ। তবে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বরাবরই সফল বাঁহাতি স্পিনাররা। কিন্তু শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে একাদশ নিয়ে রহস্য রেখে দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি।
তবে প্রস্তুতি ম্যাচে একজন অফ স্পিনারের অভাব খুব অনুভব করতে দেখা গেছে মাশরাফিকে। আর কোনো অফ স্পিনার না থাকায় বল করিয়েছিলেন ইমরুল কায়েসকে দিয়ে। তবে প্রথম ওয়ানডের দলে পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেনের মতো অফ স্পিনারকে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর একটায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও গাজী টেলিভিশন।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, লিটন কুমার দাস, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান ও আরাফাত সানি।