ক্রীড়া প্রতিবেদক | ০৭ নভেম্বর, ২০১৫
প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ২৭২ রান তাড়া করে জেতার পর আজ জিম্বাবুয়েকে ছুঁড়ে দেয়া ২৭৪ রানের টার্গেট নিয়ে মধ্য বিরতিতে হয়তবা যথেষ্টই ভাবনায় ছিল বাংলাদেশ।
তবে প্রস্তুতি ম্যাচ আর মূল ম্যাচের পার্থক্য মনে করিয়ে দিতে সময় নিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। শুরু থেকেই চাপে রেখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তোলে নিতে থাকলেন তারা।
ফলে প্রথম ম্যাচে ১৪৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতল মাশরাফির দল। তাতে বড় অবদান সাকিব আল হাসানের। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত ৫ উইকেট দখল করলেন এই তারকা।
মন্থর শুরুর পর ৪০ রানের মাতায় জিম্বাবুয়ের প্রথম উইকেট ঘটান সাকিব আল হাসান। চিবাবাকে লিটন দাশের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর আর কখনই দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে অধিনায়ক চিকাম্বুরা সর্বোচ্চ ৪১ রান করলেও আর কেউ যোগ্য সঙ্গ দিতে পারে নি। সাকিব নিয়েছেন ৫ উইকেট, মাশরাফির শিকার দুই। একটি করে উইকেট পেয়েছেন নাসির ও আল-আমিন।
তবে এদিন বাংলাদেশ পেস বিস্ময় মুস্তাফিজ উইকেট শূন্য থাকেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে লড়াইয়ের পুঁজি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
মুশফিক ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তোলে আউট হন ১০৭ রান করেন। ৫০ ওভার শেষে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৭৩।
সৌম্য সরকারের ইনজুরির কারণে ইনিংস ওপেন করতে নামা লিটন দাশ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন নি। কোন রান না করেই তিনি আউট হয়ে যান। এরপর মাত্র ৯ রান করে ফিরে যান মাহমুদুলাহ রিয়াদও।
তামিমের সাথে জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিয়ে উঠতেই তামিম ৪০ ও সাকিব ১৬ রান করে দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সাব্বির রহমানকে নিয়ে সেই চাপ ভালোই সামাল দেন বাংলাদেশের 'লিটল মাস্টার'।
শুরুতে রান তোলার গতি মন্থর থাকায় বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তোলেন সাব্বির ও মুশফিক। কিন্তু দুজনেই গ্রায়েম ক্রেমারের দুর্দান্ত দুটি থ্রোতে রান আউট এবং মাঝে নাসির হোসেন কোন রান না করেই বিদায় নিলে ২৮০ রান তোলার আশা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের।
৫৮ বলে ৫৭ রান করেন সাব্বির আর মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১০৮ বলে ১০৭ রান।
শেষের দিকে মাশরাফি ৮ বলে ১৪ এবং আরাফাত সানি ১৫ রান করলে দলীয় সংগ্রহ ২৭০ ছাড়ায়। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুজারাব্বানি নিয়েছেন ২ উইকেট।
১০৭ রান করায় ম্যাচ সেরা হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।