স্পোর্টস ডেস্ক | ২৫ জুন, ২০২১
ক্লাব ফুটবলে, নাকি জাতীয় দলের জার্সিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আলাদা করার উপায় নেই। বরং জাতীয় দলের জার্সিতে তার নিবেদন চোখে পড়ার মত। গত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের কথাই ধরুন না কেন, চোটে চোখের জল ঝরিয়ে মাঠ ছাড়ার পর মাঠের বাইরে বসে রোনালদো হয়ে গিয়েছিলেন মেন্টর যেন। দলের জন্যে শিরোপার সেই সে আকুতি ফুটবলবোদ্ধাদের এখনও ভাসে চোখে। সেবার রোনালদো জিতেছিলেন ইউরো কাপ।
এবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে বরাবরের মতই উজ্জল রোনালদো। দলকে নিয়ে গেছেন নকআউট পর্বে। গোল করেছেন প্রতি ম্যাচে। গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। ইউরোতে মিশেল প্লাতিনির গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডও ভেঙেছেন। আন্তর্জাতিক গোলে এতদিন এককভাবে শীর্ষে থাকা ইরানের আলী দাইয়ির সঙ্গে যৌথভাবে ওঠেছেন শীর্ষে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুজনেরই গোল ১০৯ করে।
অবাক কাণ্ড, এক বড় কীর্তি গড়েও নির্লিপ্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বাড়তি উচ্ছ্বাসে গা ভাসাচ্ছেন না। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, সেটিই যে মাথায় ঘুরছে পর্তুগিজ তারকার। তার জোড়া গোলেই ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে ইউরো ২০২০-এর শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে তার দেশ পর্তুগাল। এটাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড স্পর্শ করাটা গৌরবের, কিন্তু জুভেন্টাস তারকার কাছে সেটি দেশের অর্জনের চেয়ে বড় নয়।
গৌরবের দিনে ইনস্টাগ্রামে বিশেষ মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে রোনালদো লিখেছেন ছোট্ট একটা বার্তা, ‘দলকে অভিনন্দন। সতীর্থদের ধন্যবাদ, সব সময় নিঃস্বার্থ সহায়তা দিয়ে যাওয়ার জন্য।’
রোনালদোর কীর্তিতে মুগ্ধতা ঝরছে সাবেক গ্রেটদের। প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন তারা তাকে। আলী দাইয়িও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি লিনেকারেরটুইটে মজা করে লিখেছেন, রোনালদো একাই আন্তর্জাতিক ফুটবলে যত গোল করেছেন, সেটি ইংল্যান্ডের ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, রিও ফার্ডিনান্ড আর অ্যালেন শিয়ারার—এ তিনজনের খেলা মোট ম্যাচের চেয়ে বেশি!’
দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগাল মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের। শিরোপা ধরে রাখতে কঠিন প্রতিপক্ষকেই নিয়ে ভাবনা রোনালদোর।