Sylhet Today 24 PRINT

পাচার হওয়া যৌনকর্মী থেকে প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলার

স্পোর্টস ডেস্ক |  ২১ নভেম্বর, ২০১৫

কিশোর বয়সে তাকে যৌনকর্মী হিসেবে পাচার করা হয়েছিল ব্রিটেনে। সেখানে নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে তিনি একদিন ঠাঁই করে নিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের এক ক্লাবে। আফ্রিকা থেকে যে কিশোর তরুণরা এখন ইউরোপে এসে বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখে তাদের জন্য কাজ করেন এখন এই সাবেক ফুটবলার।

ওয়াটফোর্ডের সাবেক খেলোয়াড় আল বাঙ্গুরা সম্প্রতি বিবিসির ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার প্রোগ্রামে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তার এই চাঞ্চল্যকর জীবন কাহিনী প্রকাশ করেছেন।

আল বাঙ্গুরার জন্ম সিয়েরা লিওনে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের দিকে ঝোঁক ছিল। তাঁর বয়স যখন মাত্র ১৪, তখন প্রতিবেশী দেশ গিনিতে চলে যান। সেখানে এক ফরাসী নাগরিকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।

লোকটি তার সঙ্গে বন্ধুর ছল করে ঘনিষ্ঠ হয়। তাকে বলা হয়, বড় ফুটবলার হওয়ার যে স্বপ্ন তুমি দেখছো তা পূরণ হবে। কিন্তু বাঙ্গুরা তখনো জানতেন না যে তিনি পাচারকারীর খপ্পরে পড়েছেন।

বাঙ্গুরাকে প্রথমে ফ্রান্স এবং পরে সেখান থেকে ব্রিটেনে পাচার করা হয়। তাকে একটি একা বাড়ীতে রেখে লোকটি চলে যায়।

“আমি তখনো জানতাম না যে আমাকে যৌন কাজে নিয়োজিত করার জন্য লোকটি এই মতলব ফেঁদেছিল।”

এরপর দুই তিনজন লোক ঐ বাড়ীতে এস বাঙ্গুরা ধর্ষণের চেষ্টা করে।

“তখন আমার বয়স কম ছিল। তাই আমি জোরে চিৎকার শুরু করলাম। যে লোকগুলো এসেছিল, তারা ভেবেছিল, আমাকে যে পুরুষ পতিতা হিসেবে কাজ করতে হবে, সেটা আমি জানি। কিন্তু আমি তো জানতাম আমি এখানে এসেছি ফুটবল খেলতে।”

“আমি চিৎকার করছিলাম আর কাঁদছিলাম। আমি সেখানে থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলাম। বাইরে আমি ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত। আমার মনে হচ্ছিল আমার জীবনের বুঝি এখানেই শেষ।”

একজন নাইজেরিয় মানুষ বাঙ্গুরাকে সাহায্য করেন এবং তাকে হোম অফিসে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেন। তাকে ব্রিটিশ হোম অফিস দু বছর ব্রিটেনে থাকার অনুমতি দেয়।

এরপর জীবন পাল্টে যায় বাঙ্গুরার। তিনি ফুটবল খেলার সুযোগ পান। নানা লোকজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। যোগ দেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল ক্লাব ওয়াটফোর্ডে।

অনুমান করা হয় প্রতি বছর পশ্চিম আফ্রিকার দশটি দেশ থেকে প্রায় পনের হাজার টিনএজার ফুটবলার বিদেশে পাড়ি জমায়। এদের অনেকেই আসলে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে।

ক্রীড়া সাংবাদিক এড হকিন্স বলেন, কত ছেলেকে এভাবে পাচার করা হয় তার সঠিক সংখ্যা বলা মুশকিল, কিন্তু এটা প্রতি বছর হাজারের কম হবে না।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী কোন ক্লাব ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে দলে নিতে চুক্তি করতে পারবে না। কিন্তু সেখানে অনেক ফাঁক ফোকর আছে।

বাঙ্গুরা এখন এই পাচার বন্ধে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন।

“আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু আরও যেসব তরুণ ছেলেরা আসছে, তারা কি বাঁচবে? সেকারণেই আমাদের এই পাচার বন্ধে কাজ করা দরকার।

বিবিসি বাংলা ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.