স্পোর্টস ডেস্ক | ০৫ অক্টোবর, ২০২২
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘সি’ গ্রুপকে বলা হচ্ছিল ‘গ্রুপ অব ডেথ’। পরের পর্বে যেতে বায়ার্ন মিউনিখ, ইন্টার মিলান আর বার্সেলোনার মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল, এখনও তাই। যেকোনো দল যেতে পারে পরের পর্বে এমনই সমীকরণ। গ্রুপের অন্য দল ভিক্টোরিয়া প্লজেনের সম্ভাবনা শুরু থেকেই ছিল না। তারা আছে এখনও জয়হীন।
অনুমিতভাবে জমে গেছে লড়াই। গ্রুপ শীর্ষে যথারীতি বায়ার্ন মিউনিখ, তিন ম্যাচে তিন জয় পেয়েছে তারা। ইন্টার মিলান তিন ম্যাচে একটি হারের বিপরীতে দুই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয়, অন্যদিকে বার্সেলোনা তিন ম্যাচ থেকে অর্জন করতে পেরেছে তিন পয়েন্ট, দুইটি হার তাদের।
মঙ্গলবার সান সিরোয় ১-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। ইন্টারের জয়ের নায়ক হাকান কালহানোগলু।
এই ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায়নি দলবদলে এবার বার্সেলোনায় আসা রবের্ত লেভানদোভস্কিকে। লেভা গোল পাননি, তাই জিততে পারেনি বার্সেলোনা। এই ম্যাচের ফলাফলে বার্সেলোনার নকআউট পর্বে উত্তরণের সম্ভাবনা কঠিন হয়ে গেল।
লেভা গোল না পেলে বার্সেলোনা জিতবে না, এই মৌসুমে এটাই যেন নিয়তি। লা লিগায় এ পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলেছে বার্সেলোনা, এই ৭ ম্যাচের ৬টিতে লেভা করেছেন মোট ৯ গোল। বার্সেলোনাও জিতেছে ওই ৬ ম্যাচই। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে লেভা গোল পাননি, সেই ম্যাচ ড্র করেছে জাভি হার্নান্দেজের দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গোল পাননি লেভা, জিতেওনি দল। ইন্টার মিলানের বিপক্ষেও একই পরিণতি; লেভা ফেল, ফেল বার্সেলোনাও!
ম্যাচে বদল দখলে বরাবরের মতো এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা, কিন্তু ফুটবল যে গোলের খেলা। এখানে ব্যর্থ দলটি।
কালহানোগলুর নৈপুণ্যে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ইন্টার। ভেস্তে যেতে বসা একটি আক্রমণে আলগা বল পেয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শট নেন তিনি। সময়মতো লাফিয়ে কোনোমতো এক হাত দিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান বার্সেলোনা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।
এরপর একচেটিয়া বল দখলে রেখে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। কিছু হাফ-চান্সও পায় তারা, তবে রবের্ত লেভানদোভস্কি, রাফিনিয়ারা প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে যথেষ্ট কার্যকর হতে পারছিলেন না। বরং প্রতি-আক্রমণে তুলনামূলক বেশি ভীতি ছড়াচ্ছিল ইন্টার।
তেমন এক পাল্টা আক্রমণে ২৮তম মিনিটে মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে কাটিয়ে জালে বল পাঠান হোয়াকিন কোররেয়া। তবে তিনি অফসাইডে থাকায় মেলেনি গোল।
একই ছন্দে খেলা এগিয়ে চলার মাঝেই বিরতির ঠিক আগে সফরকারীদের স্তব্ধ করে দেন কালহানোগলু। লাউতারো মার্তিনেসের জোরাল শট রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার পর সতীর্থের পাস পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে নিখুঁত শট নেন তুর্কি মিডফিল্ডার। বল পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়।
৬১ মিনিটে দেম্বেলের শট ইন্টার গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনাহার গ্লাভস ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। মিনিট পাঁচেক পরে পেদ্রি বল জালে পাঠালেও এর আগে আনসু ফাতির হ্যান্ডবল হওয়ায় সেই গোলও বাতিল হয়ে যায়। 'অনিচ্ছাকৃত' এ হ্যান্ডবল নিয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে ইতোমধ্যেই।