স্পোর্টস ডেস্ক | ০৯ অক্টোবর, ২০২২
পরামর্শক শ্রীধরন শ্রীরাম পারফরমারের চাইতে ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার চেয়েছিলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ছিলেন তার দৃষ্টির সেই ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার। কিন্তু নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে রান করলেন ঠিক শান্ত, কিন্তু পরামর্শক শ্রীরামের সেই ইমপ্যাক্ট কোথায় এনিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ম্যাচে শান্ত করেছেন ২৯ বলে ৩৩ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ যদিও তবু প্রশ্ন তো থাকছেই।
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে রোববার টস হেরেছিল বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নামে প্রথমে। সেখানে হতশ্রী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ করতে পারে মাত্র ১৩৭ রান। শেষ দিকে উইকেটকিপার ব্যাটার সোহানের ব্যাটে ঝড় না উঠলে ওখানে পৌঁছাই হয়তো হতো না বাংলাদেশের। সোহান করেন ১২ বলে ২৫ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের লক্ষ্য টপকায় নিউ জিল্যান্ড খুব সহজেই, জয় তুলে নেয় তারা ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে।
বাংলাদেশ ধাক্কাটা খেয়েছিল ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই। মেহেদি হাসান মিরাজ ফিরেছিলেন টিম সাউদির শিকার হয়ে। এরপর তিনে আসেন লিটন, তবে শেষ কিছুদিনের ছন্দটা এদিন যেন তার ব্যাট থেকে হারিয়ে গিয়েছিল আজ। ১৬ বলে ১৫ রানের ইনিংস খেলে মাইকেল ব্রেসওয়েলকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে হাঁসফাঁস করেছেন প্রায় পুরোটা সময় ধরেই।
সাকিব খেলবেন চারে, এমন একটা কথা শোনা যাচ্ছিল বেশ, তবে আজ সাকিব নেমেছেন সাতে। তার আগে একে একে উইকেটে গিয়েছেন আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন আর ইয়াসির আলী। আফিফ বাদে দুই অঙ্কে যেতে পারেননি একজনও। ৯৩ ছোঁয়া স্ট্রাইক রেটটা হিসেবে আনলে আফিফকেও মোটাদাগে ব্যর্থই বলা চলে।
টুর্নামেন্ট শুরুর এক দিন আগে দলে যোগ দেওয়া সাকিব আজই প্রথম নামেন দলের হয়ে। তিনিও খুব বেশি কিছু করতে পারেননি, ১৬ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে যখন বিদায় নিচ্ছেন, অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও জেঁকে বসেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। সেখান থেকে বাংলাদেশ যে ১৩৭ রানের পুঁজি পেয়েছে, তাতে পুরো কৃতিত্বটা উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানের। শেষ স্বীকৃত এই ব্যাটারের ব্যাটেই বাংলাদেশ পায় ইনিংসের প্রথম ২০০ স্ট্রাইক রেট ছোঁয়া ইনিংস, ১২ বলে তিনি করেন ২৫ রান, ১ চারের বিপরীতে তিনি হাঁকান দুটো ছক্কা।
বল হাতে সে লড়াইটা দেখা গেল না। মামুলি লক্ষ্য সামনে রেখে নিউ জিল্যান্ড শুরুটা করেছিল বেশ ধীরে সুস্থে।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ফিন অ্যালেনকে ফেরান শরিফুল। এরপর কেবলই ডেভন কনওয়ে ও কেইন উইলিয়ামসনের জুটির গল্প। দুই জনের এই জুটিতে ৬৬ বলে নিউ জিল্যান্ড তোলে ৮৫ রান। ২৯ বলে ৩০ রান করা উইলিয়ামসন যখন হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে ফিরছেন, তখন কিউইদের প্রয়োজন ছিল ৩০ বলে ২৯ রান। পরের ১৭ বলেই তুলে ফেলেছে ৩৩ রান।