স্পোর্টস ডেস্ক | ১৮ অক্টোবর, ২০২২
২০২২ সালের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা।
সোমবার রাতে প্যারিসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে করিম বেনজেমার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
নারী ফুটবলে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে পুরস্কার পেয়েছেন বার্সেলোনার অ্যালেক্সিস পুতেয়াস। সেরা গোলরক্ষকের ইয়াসিন ট্রফি পেয়েছেন বেলজিয়াম ও রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। উদীয়মান ফুটবলারের কোপা ট্রফি জিতেছেন বার্সেলোনার গাভি। ‘মুলার ট্রফি’ জিতেছেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন পেয়ে ক্লাবের পুরস্কার জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
ব্যালন ডি’অরের জন্য আগে পুরো বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হলেও গত মার্চে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। এই বছর থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের পুরো একটি মৌসুমের সময়কে (আগস্ট-জুলাই)।
২০২১-২২ মৌসুমে রিয়ালের রেকর্ড ১৪তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে বড় অবদান ছিল বেনজেমার। ১৫ গোল করে আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ১০টিই করেন নকআউট পর্বে। একের পর এক ম্যাচে রিয়ালের রূপকথার প্রত্যাবর্তনের নায়ক তিনি। বিশেষ করে শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার-ফাইনালে ফরাসি তারকার হ্যাটট্রিকেই পিএসজি ও চেলসিকে বিদায় করে দেয় মাদ্রিদের দলটি। সেমি-ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারণী গোলটিও তারই করা।
গতবার রিয়ালের লা লিগা জয়েও বড় অবদান রেখে বেনজেমা করেন আসরের সর্বোচ্চ ২৭ গোল। এছাড়া ক্লাবের স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পথে তিনি একবার করে জালের দেখা পান সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে। মাদ্রিদের দলটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে করেন ৪৪ গোল।
পুরস্কারটির বিবেচিত সময়ে জাতীয় দলেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেন বেনজেমা। গত বছরের অক্টোবরে ফ্রান্সের নেশন্স লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। চার দলের ফাইনালসের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেন একটি করে। এমন পারফরম্যান্সের সুবাদে গত আগস্টে প্রথমবারের মতো উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান বেনজেমা। এবার পেয়ে গেলেন আরও বড় স্বীকৃতি, ব্যালন ডি’অর!
১৯৫৬ সাল থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দেরই দেওয়া হতো। এর পর থেকে ইউরোপে খেলা বিশ্বের যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর ২০০৭ সাল থেকে কেবল ইউরোপের সেরা নয়, পুরস্কারটি দেওয়া শুরু হয় বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে।
ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার আর ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর একীভূত হয়েছিল ২০১০ সালে। ফিফার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে আবার একাই ব্যালন ডি’অর দেওয়া শুরু করে ফ্রান্স ফুটবল। ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ করা হয় সাংবাদিকদের ভোটে।
ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের সেরা ত্রিশে ছিলেন না সাতবারের জয়ী লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়া মেসি গত মৌসুমে সেরা ত্রিশে আসার মতো মৌসুম কাটাতে পারেননি। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালো আছেন তালিকার ২০ নম্বরে।
সেরা পাঁচে রয়েছেন যথাক্রমে করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স); সাদিও মানে (লিভারপুল/বায়ার্ন মিউনিখ/সেনেগাল); কেভিন ডে ব্রুইনে (ম্যানচেস্টার সিটি/বেলজিয়াম); রবের্ত লেভানদোভস্কি (বায়ার্ন মিউনিখ/বার্সেলোনা/পোল্যান্ড), মোহামেদ সালাহ (লিভারপুল/মিশর)।
এরপরে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি/ফ্রান্স); থিবো কোর্তোয়া (রিয়াল মাদ্রিদ/বেলজিয়াম); ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ/ব্রাজিল); লুকা মদ্রিচ (রিয়াল মাদ্রিদ/ক্রোয়েশিয়া); আর্লিং হলান্ড (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড/ ম্যানচেস্টার সিটি/নরওয়ে); সন হিউং মিন (টটেনহ্যাম হটস্পার/ দক্ষিণ কোরিয়া); রিয়াদ মাহরেজ (ম্যানচেস্টার সিটি/আলজেরিয়া); সেবাস্তিয়ান হলার (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড/কোত দি ভোয়া); ফাবিনিয়ো (লিভারপুল/ব্রাজিল) রাফায়েল লেয়াও (এসি মিলান/পর্তুগাল); ভার্জিল ফন ডাইক (লিভারপুল/নেদারল্যান্ডস); লুইস দিয়াস (লিভারপুল/কলম্বিয়া), দুসান ভ্লাহোভিচ (ইউভেন্তুস/সার্বিয়া), কাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ/ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/ব্রাজিল); ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/পর্তুগাল)।
এরপর রয়েছেন হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম হটস্পার/ইংল্যান্ড); ফিল ফোডেন (ম্যানচেস্টার সিটি/ইংল্যান্ড), বের্নার্দো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি/পর্তুগাল), ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড (লিভারপুল/ইংল্যান্ড); জোয়াও কানসেলো (ম্যানচেস্টার সিটি/পর্তুগাল), দারউইন নুনেস (বেনফিকা/ লিভারপুল/উরুগুয়ে), জসুয়া কিমিখ (বায়ার্ন মিউনিখ/জার্মানি), মাইক মিয়াঁ (এসি মিলান/ফ্রান্স), আন্টোনিও রুডিগার (চেলসি/রিয়াল মাদ্রিদ/জার্মানি), ক্রিস্তোফা এনকুনকু (লাইপজিগ/ফ্রান্স)।