স্পোর্টস ডেস্ক | ০৬ নভেম্বর, ২০২২
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চমক জাগানো নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল সেমিফাইনালে উঠার মঞ্চ। সে মঞ্চে দাঁড়িয়ে শেষ হাসি হেসেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশকে হারিয়েছে তারা ৫ উইকেটের ব্যবধানে।
অ্যাডিলেড ওভালে রোববার (৬ নভেম্বর) টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১২৭ রান। জবাবে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তান লক্ষ্যে পৌঁছায় ১১ বল বাকি থাকতে।
পাকিস্তানের ইনিংসের তৃতীয় বলেই উইকেটের পিছনে তাসকিন আহমেদের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচ ছাড়েন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। জীবন পাওয়া মোহাম্মদ রিজওয়ান শেষ পর্যন্ত প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন ৩২ বলে ৩২ রান করে।
বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটিতে ৫৭ রান উঠলেও দুজন মিলে খেলেছিলেন ৬৩ রান। বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়েছেন মূলত মোহাম্মদ হারিস। ১৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলার পথে নেওয়াজের সঙ্গে ২০ বলে ৩১ রানের পর শান মাসুদের সঙ্গে ১৪ বলে ২৯ রানের জুটি গড়েন হারিস।
বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আবারও প্রমাণ করেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। নিজের কোটার পুরো ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৪ রান দিয়ে এক উইকেট শিকার করেন। নাসুমের করা ২৪ বলের মধ্যে ১৩টিই ছিল ডটবল।
রিজওয়ান ও বাবর আজম পাঁচ বলের ব্যবধানে ফিরলে ২০ বলে ৩১ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ নাওয়াজ ও মোহাম্মদ হারিস। এই জুটিই ভয়ংকর হয়ে উঠার মুহূর্তেই রান আউট হন মোহাম্মদ নাওয়াজ। দারুণ এক থ্রোতে তাকে ফেরান লিটন দাস। নাওয়াজ ফিরলেও পাকিস্তানের জয় পেতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। শান মাসুদ ও মোহাম্মদ হারিসের ব্যাটে সহজেই জয়ের বন্দরে ভেড়ে পাকিস্তান।
যদিও দলীয় ১২১ রানের মাথায় মোহাম্মদ হারিস ১৮ বলে ৩১ রান করে ফেরেন। হারিস ফিরলে মোহাম্মদ ইফতিখারও খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি। ১২৬ রানের মাথায় ফেরেন ইফতিখার। তার বিদায়ের পরেই বলেই জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা পাকিস্তান পরের ম্যাচ হেরেছিল জিম্বাবুয়ের কাছে। সেমি-ফাইনালে সুপার টুয়েলভের গ্রুপ-২ থেকে তাদের সঙ্গী ভারত।
অ্যাডিলেড ওভালে এই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও ইবাদত হোসেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা বেশ ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দলীয় ২১ রানে ওপেনার লিটন ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন নাজমুল হাসান শান্ত। তার ব্যাটে আসে ৫৪ রান। টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করার দিনে খেলেছিলেন ৪৮ বল। ওয়ানডে গতিতে তার হাফ সেঞ্চুরিই কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের রানের গতি।
ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান শিকার হন আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের। সাকিব ভুল সিদ্ধান্তে ফিরলেও বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের বাকিরা কিছুই করতে পারেননি। মোসাদ্দেক, নুরুল হাসান সোহানরা খেলতে পারেননি নিজেদের প্রত্যাশামাফিক কোনো ইনিংস।
বিপরীতে পাকিস্তানি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি তার সেরা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই। মাত্র ২২ রানে ৪ টাইগার ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। এছাড়াও স্পিনার শাদাব খান শিকার করেন ২ উইকেট।