Sylhet Today 24 PRINT

একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে আফগানিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক |  ১৫ জুন, ২০২৩

উইকেটরক্ষক মিলিয়ে স্লিপ ও গালিতেই দাঁড়িয়ে আছেন সাত জন ফিল্ডার। ৩০ গজ বৃত্তের ভেতর আরও দুজন। এমন আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে আগে থেকেই আফগানিস্তানকে অনেকটা কাবু কর রেখেছিলো বাংলাদেশ। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে পাল্টা আক্রমণ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিল আফগানরা। ওভার প্রতি রান তুলছে চারেরও বেশি করে। নাসির জামালকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতে ফলোঅনের শঙ্কায় রয়েছে তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সফরকারীদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১২৮ রান।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৮২ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে৩ ৬২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে টাইগাররা। মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুজনেই ছিলেন হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি। কিন্তু কেউই করতে পারেননি সেটি।

প্রথমে আউট হন মিরাজ। ৮ চারে ৮০ বলে ৪৮ রান করে আউট হন তিনি। ইয়ামিন আহমেদ জাইয়ের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে আমির হামজা হোতাকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মিরাজ। এরপরের লড়াইটা ছিল মুশফিকুর রহিমের জন্য। কিন্তু এই ব্যাটারও পারেননি টিকে থাকতে। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপে গেলে আউট হয়ে যান নিজাত মাসুদের বলে। ৪ চারে ৭৬ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরে ফেরত যান তিনি।

মুশফিকের বিদায়ের পর বাংলাদেশের অলআউট হওয়া ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। টেল-এন্ডাররা বেশিক্ষণ থাকতেও পারেননি। ৭ বলে ২ রান করে তাসকিন আহমেদ ও ১১ বলে ৬ রান করে শরিফুল কিছুক্ষণ চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে ২০ রানের ভেতরই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। আফগানিস্তানের পক্ষে ১৬ ওভারে ২ মেডেনসহ ৭৯ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন মাসুদ। ১৬৭তম বোলার ও আফাগানিস্তানের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে অভিষেকেই ফাইফার নেওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি।

পরে ফিল্ডিংয়ে নেমে ষষ্ঠ ওভারেই উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। শরিফুলের বলে উইকেটে পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দেন ইব্রাহিম। ব্যক্তিগত ৬ রানে ফেরেন এই ব্যাটার।  এর আগে শরিফুলের বলেই তাকে জীবন দেন লিটন। এরপর নিজের প্রথম ওভারে এসেই উইকেটের দেখা পান এবাদত। তার লাফিয়ে উঠা বলে স্লিপে থাকা জাকির হাসানের হাতে ক্যাচ দেন আব্দুল মালিক। দারুণ বল করতে থাকা এবাদত তৃতীয় ওভারেও পান উইকেটের দেখা। ডানহাতি এই পেসারের শর্ট বলে কুপোকাত হয়ে তাসকিন আহমেদকে ক্যাচ দেন রহমত শাহ। ৯ রানে ফেরেন তিনি। এরপরই লাঞ্চের সংকেত দেন আম্পায়াররা।

লাঞ্চ ব্রেকের পর ফিরে এসে নাসির জামাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদী একটি করে চার মারেন। বেশিদূর যেতে পারেনি তাদের জুটি। মাত্র ১৬ রান তুলেছেন দুজনে।

১৪তম ওভারের প্রথম বলে শরিফুল ইসলাম বিচ্ছিন্ন করলেন হাশমতউল্লাহ ও জামালকে। এক্সট্রা বাউন্সের বলটি ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে স্লিপে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়ে। ১৬ বলে ৯ রান করেন আফগান অধিনায়ক। ৫১ রানে ৪ উইকেট হারালো সফরকারীরা।

৫১ রানে চার উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তান সতর্ক। আফসার জাজাই ও নাসির জামালের জুটিতে একশ ছাড়ায় তাদের স্কোর। প্রথম ওভারে ২ রান দেওয়ার পর আরেকবার বোলিংয়ে এসে পেয়ে গেলেন সাফল্য। নিজের দ্বিতীয় ওভারে নাসির জামালকে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। ৪৩ বলে ৬ চারে ৩৫ রান আসে আফগানের ব্যাট থেকে।

আফসার জাজাইয়ের সঙ্গে ৭৩ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়েন নাসির। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামদের পেসে কাজ হচ্ছিল না। প্রতিরোধ গড়ে তোলেন নাসির জামাল ও আফসার জাজাই। ৫১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তান এই জুটিতে একশ ছাড়িয়ে যায়। সফল হলেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।

মেহেদী হাসান মিরাজের ব্রেকথ্রু। বাংলাদেশের সামনে প্রতিরোধ গড়া জুটি ভাঙলো। নাসির জামালকে এলবিডব্লিউ করেন স্বাগতিক স্পিনার। পরের ওভারে এবাদত হোসেন বল হাতে নিয়ে ফেরান আরেক সেট ব্যাটার আফসার জাজাইকে। ৪০ বলে ৩৬ রান করেন আফগান ব্যাটার। চার বলে ২ উইকেট তুলে নিয়ে আবার ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ।

এর আগে দারুণ থ্রোয়ে রানআউটের সুযোগ তৈরি করেছিলেন শর্ট লেগে থাকা মুমিনুল হক। সে দফা সফল হননি। এবার একই পজিশনে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক নিলেন দুর্দান্ত ক্যাচ। ইবাদত হোসেন যথারীতি শর্ট বল করেছেন, সেটি ডিফেন্ড করতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন আমির হামজা। শর্ট লেগে থাকা মুমিনুল ডাইভ দেন বাঁদিকে। ইবাদত পেলেন চতুর্থ উইকেট। আফগানিস্তান হারাল সপ্তম উইকেট।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.