স্পোর্টস ডেস্ক | ২২ জানুয়ারী, ২০১৬
চার ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অনেক পরীক্ষানিরীক্ষার ম্যাচে ফেল করেছিল বাংলাদেশ। এবার চতুর্থ ম্যাচে এসে সেদিকে না গিয়ে ম্যাচ জিতে সিরিজ জিততে চায় বাংলাদেশ। সিরিজে বাংলাদেশ এখনও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও জিম্বাবুয়ে চাইছে টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা নিয়ে আসতে।
সিরিজ জিততে জয়ের বিকল্প নেই এমন সমীকরণের সামনে টি-টোয়েন্টি ইন্টারন্যাশনালের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ।
২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে নিয়মিত টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক হাবিবুল বাশার খেলেনইনি, অধিনায়কত্ব করেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। ইনিংসের গোড়াপত্তনে তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন টেস্ট ও ওয়ানডের নিয়মিত মুখ জাভেদ ওমরের বদলে নাজমুস সাদাত। সেই একবারই জাতীয় দলে খেলা হয়েছিল ব্রাদার্সের এ মারকুটে বাঁহাতি ওপেনারের। সেই দলে সুযোগ পেয়েছিলেন নাদিফ চৌধুরীও, সম্ভাবনাময় এ অলরাউন্ডার পরে আর জাতীয় দলে খুব বেশি সুযোগ পাননি।
ফারুক আহমেদ, আতাহার আলী খান ও গোলাম নওশের প্রিন্সরা শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টির জন্য তারুণ্যনির্ভর এবং অলরাউন্ডারদের নিয়ে ওয়ানডের থেকে টি-টোয়েন্টির দলটা যে চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যে আলাদা করার কথা ভেবেছিলেন, সেটা ধোপে টেকেনি। পরবর্তী সময়ে ওয়ানডের দলটাকেই একই ব্যাটিং অর্ডারে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে টি-টোয়েন্টিতে। ফল, টেস্ট খেলা দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয়ের হার সর্বনিম্নের এক ধাপ ওপরে, ৩১.১৫%, আরো ভেঙে বললে ৪৯ ম্যাচের মাত্র ১৫টিতে জয়।
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড এমনকি হংকংয়ের মতো দলও। বিশেষ করে দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরে হংকংয়ের কাছে হারের লজ্জা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় বাংলাদেশকে, কারণ ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার আগে সেই অপেশাদার সময়েও তো হংকংয়ের কাছে হারেনি বাংলাদেশ।
প্রথাগত এ চিন্তা-ভাবনায় ঘুরেফিরে প্রাপ্তির খাতাটা শূন্য, তখন মাশরাফি ও চণ্ডিকা হাতুরাসিংহে চেয়েছেন এবারের টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরের আগে একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে। বিপিএলে সফল খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে সুযোগ দিতে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুটো টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ না হারাটা নিশ্চিত করার পর তৃতীয় ম্যাচটা হেরেছে বাংলাদেশ, ৩১ রানে। তাতে পাঁচটা পরিবর্তনের জের ধরেই অনেক লঙ্কাকাণ্ড। কাল দুপুরে টিম হোটেলে হয়েছে পর্যালোচনা বৈঠক, যেখানে কোচ এবং অধিনায়কের কাছে অদল-বদলের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
২০০৬ সালে এ মাঠেই খেলা বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তো দলের কারোরই আগে টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না, উল্টোদিকে জিম্বাবুয়ে দলও ব্রেন্ডন টেলরসহ কয়েকজনকে নিয়ে বর্তমান দলের চেয়ে ছিল শক্তিশালী। তবু বাংলাদেশ জিতেছিল মাঠের খেলায় ভালো করেই। ৫০তম টি-টোয়েন্টির সঙ্গে সিরিজ জিততেও খেলতে হবে শ্রেয়তর ক্রিকেট।
ম্যাচ খেলার হাফসেঞ্চুরির মাইলফলকে পা রেখে পারবে কি বাংলাদেশ; উত্তরটা যে লিখিত হবে শুক্রবার বিকেলে শুরু ম্যাচ থেকেই!