সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৯ জুন, ২০২৬
চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অনন্য এক ইতিহাস গড়েছেন প্রধান রেফারি টরি পেন্সো এবং তার দুই সহকারী রেফারি ব্রুক মায়ো ও ক্যাথরিন নেসবিট।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আটলান্টা স্টেডিয়ামে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচটি যৌথভাবে পরিচালনার মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ও একমাত্র ‘অল-উইম্যান’ (সম্পূর্ণ নারী) রেফারি ত্রয়ী (trio) হিসেবে রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছেন তারা।
খেলাধুলার ইতিহাসে বড় মঞ্চে এই তিন মার্কিন রেফারির ইতিহাস গড়ার ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের ১ অক্টোবর লমার হান্ট ইউএস ওপেন কাপের ফাইনালে অস্টিন এফসি ও ন্যাশভিল এসসি-র মধ্যকার ম্যাচেও এই তিন নারী রেফারি প্রথম অল-ফিমেল অন-ফিল্ড ক্রু হিসেবে ম্যাচ পরিচালনার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
চলতি গ্রীষ্মকালীন এই বিশ্বমঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট আটজন রেফারিকে মনোনীত করেছে ফিফা। এর আগে গত ১৪ জুন ডালাসে অনুষ্ঠিত নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মধ্যকার ম্যাচেও প্রথমবারের মতো আমেরিকান রেফারিদের একটি দল ম্যাচ পরিচালনা করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার এই তিন নারী রেফারি মাঠে নেমে বিশ্বমঞ্চে আমেরিকান রেফারিদের দক্ষতা, বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দিলেন।
বিশ্বকাপের মতো এত বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের স্থান করে নেওয়ার নেপথ্যে এই রেফারিদের দিতে হয়েছে চরম আত্মত্যাগ। সহকারী রেফারি ব্রুক মায়ো এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিশ্বকাপের এই স্বপ্ন পূরণের জন্য দীর্ঘ ১০ বছরের শিক্ষকতা ও কোচিং পেশা ছেড়ে তাকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে হয়েছিল। পরিবার ও বন্ধুদের অসংখ্য বিশেষ মুহূর্ত মিস করার পাশাপাশি নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে শুরুর দিকে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হয়েছিল তাকে।
বিশ্বমঞ্চে নারী রেফারিদের এই অংশগ্রহণ নিয়ে ব্রুক মায়ো বলেন, অধিকাংশ সময় আমরা নিজেদের আলাদা কিছু ভাবি না, আমরা কেবলই রেফারিদের একটা দল। কিন্তু যখন কোনো নির্দেশক এসে বলেন যে হাজার মাইল দূরে থাকা তার মেয়ে আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছে, কিংবা কোনো প্রবীণ নারী ভলান্টিয়ার এসে আবেগপ্লুত হয়ে বলেন যে তাদের তরুণ বয়সে নারীদের এই পর্যায়ে দেখাটা অসম্ভব ছিল—তখন বুঝি আমরা নিজেদের চেয়েও বড় কোনো কিছুর প্রতিনিধিত্ব করছি।