স্পোর্টস ডেস্ক | ২৩ জুন, ২০২৬
ফিলাডেলফিয়ার আকাশে তখন প্রবল মেঘের গর্জন আর মুষলধারে বৃষ্টি। স্টেডিয়ামের কাছাকাছি দফায় দফায় বজ্রপাতের কারণে ফিফার নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে প্রথমার্ধের পরেই স্থগিত হয়ে যায় খেলা। প্রায় ১৩১ মিনিটের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তা শেষে যখন ম্যাচ পুনরায় মাঠে গড়াল, তখন ফরাসি ঝড়ের সামনে স্রেফ উড়ে গেল ইরাক।
কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল এবং উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ (নকআউট পর্ব) নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচ খেলতে নামা ফরাসি অধিনায়ক এমবাপের জন্য রাতটি ছিল রেকর্ড বই ওলটপালট করার। ম্যাচের ১৪ মিনিটেই তরুণ উইঙ্গার মাইকেল ওলিসের পাস থেকে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের এক দর্শনীয় শটে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে আসা ইরাক ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু ২৫ মিনিটে কুঁচকির চোটে পড়ে তাদের অধিনায়ক আয়মান হুসাইন মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। বদলি নামা আলি আল-হামাদি ফরাসি ডিফেন্সে কিছুটা কাঁপুনি ধরালেও গোলমুখো ফিনিশিংয়ের অভাবে সমতায় ফেরা হয়নি ইরাকের।
প্রথমার্ধ শেষে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিটে বজ্রপাতের কারণে খেলা বন্ধ করেন কানাডিয়ান রেফারি ড্রিউ ফিশার, যা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর রাত ৮টায় আবারও শুরু হয়। দীর্ঘ এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতিও ফরাসিদের ছন্দে কোনো পতন ঘটাতে পারেনি। ৫৪ মিনিটে উসমান দেম্বেলের পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনে মাতেন এমবাপে।
এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১৬-তে, যা তাঁকে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসিয়েছে। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা লিওনেল মেসির (১৮ গোল) রেকর্ড ছুঁতে ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের প্রয়োজন আর মাত্র ২ গোল।
এমবাপের গোল উৎসবের পর স্কোরবোর্ডে নিজের নাম লেখান দেম্বেলে নিজেই। ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের চমৎকার অ্যাসিস্টে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি পান এই ফরাসি উইঙ্গার। ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এমবাপে ও দেম্বেলেকে তুলে নিয়ে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করেন কোচ দেশম।
টানা দুই জয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষস্থান ও নকআউট পর্বের টিকিট এখন ফ্রান্সের পকেটে। আগামী ২৭ জুন বোস্টনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করা নরওয়ের।
অন্যদিকে, গ্রুপের তলানিতে থাকা ইরাক ও সেনেগালের বিদায় এখনো গাণিতিকভাবে নিশ্চিত না হলেও, পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ম্যাচে অলৌকিক কিছুর আশায় একে অপরের মুখোমুখি হবে দুই দল।