স্পোর্টস ডেস্ক | ২৪ জুন, ২০২৬
বোস্টন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে ঘানার রক্ষণাত্মক ফুটবলে আটকে গেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল দখল ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রেখেও গোলমুখ খুলতে পারেননি হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহ্যামরা।
অন্যদিকে, কার্লোস কুইরোসের ডিফেন্সিভ মাস্টারক্লাসের ওপর ভর করে শক্তিশালী ইংলিশদের রুখে দিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ঘানা।
ম্যাচের শুরু থেকেই অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক কৌশল ‘লো ব্লক’ বেছে নেয় ঘানা। প্রথমার্ধে প্রায় ৮৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও আফ্রিকান দলটির জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি টমাস টুখেলের দল।
ডান প্রান্তে ননি মাদুয়েকে কিছুটা গতি ছড়ালেও অন্য প্রান্তে অ্যান্থনি গর্ডন ছিলেন একেবারেই ম্লান। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়াতে বুকায়ো সাকা, ইবেরেচি এজে ও মরগান রজার্সকে মাঠে নামান ইংলিশ কোচ।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে মাঠে ছড়ায় তীব্র বিতর্ক। ঘানার বদলি ফরোয়ার্ড প্রিন্স আডুকে বক্সের বাইরে ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড ফাউল করলেও রেফারি উল্টো ইংল্যান্ডের পক্ষে ফ্রি-কিকের নির্দেশ দেন। রেফারি কোনো কার্ড না দেখানোয় নিয়ম অনুযায়ী ভিএআর এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেনি, যা ঘানা শিবিরকে ক্ষুব্ধ করে।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও নাটকীয় মুহূর্তটি আসে ৮৬ মিনিটে। প্রথমে বুকায়ো সাকার একটি বাঁকানো শট ঘানার গোলরক্ষক আসারে ঝাঁপিয়ে পড়ে চমৎকারভাবে রুখে দেন। এর ঠিক পরের মিনিটে রিস জেমসের ক্রস থেকে বদলি ফুটবলার নিকো ও’রেইলির জোরালো হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু ফিরতি বলে মাত্র সাত গজ দূর থেকে গোল করার একদম নিশ্চিত সুযোগ পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে বল আকাশে ভাসিয়ে দেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
শেষ মুহূর্তের এই চরম মিসের খেসারত দিয়ে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় থ্রি-লায়ন্সদের।