স্পোর্টস ডেস্ক | ২৯ জুন, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আফ্রিকার দেশ ঘানার বিখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু নানা কোয়াকু বনসাম একটি বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা এখন সব জায়গার সংবাদ শিরোনামে। তার দাবি— ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর (রাউন্ড অব ৩২) লড়াইয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেবে কেপ ভার্দে।
ঘানার এই ওঝা ঘোষণা করেছেন, আমার শক্তি কেপ ভার্দের পক্ষে থাকবে, আর্জেন্টিনা পরের রাউন্ডে যেতে পারবে না।
তার এই ঘোষণা আগামী শনিবার, ৪ জুলাই মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বড় ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
তার দাবি, অলৌকিক শক্তির সাহায্যে এই আফ্রিকান দলটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটাবে।
এই সাহসী ভবিষ্যৎবাণীর মাধ্যমে বনসাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, 'ব্লু শার্কস' (কেপ ভার্দে) বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই বাঁচা-মরার ম্যাচ থেকে বিদায় করে বাড়ি পাঠিয়ে দেবে; যে ম্যাচটি দেখার জন্য পুরো পৃথিবীর মানুষ টিভির পর্দায় চোখ রাখবে। যদিও লিওনেল স্কালোনির দল এই ম্যাচে স্পষ্ট ব্যবধানে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে, তবুও এই ওঝার ভবিষ্যৎবাণী— যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল—ম্যাচটিতে একটি পরাবাস্তব অন্ধবিশ্বাস ও উত্তেজনার পারদ যোগ করেছে। অথচ কাগজ-কলমের হিসাবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটির জন্য এটি অত্যন্ত সহজ একটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নানা কোয়াকু বনসামের কালো জাদু ও ভবিষ্যৎবাণী
আর্জেন্টিনা দলকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস দেখানো এই ব্যক্তিটি আসলে কে? ফুটবল মাঠে জাদুটোনা করার ক্ষেত্রে নানা কোয়াকু বনসাম নতুন কেউ নন; ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন। তখন তিনি দাবি করেছিলেন যে, 'কাহউইরি কাপাম' নামের একটি বিশেষ আচারের মাধ্যমে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ইনজুরি বা চোটে ফেলেছিলেন।
সম্প্রতি তিনি আবারও খবরের শিরোনামে আসেন যখন তিনি দাবি করেন যে, ঘানার বিরুদ্ধে একটি ম্যাচের সময় তিনি ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেনকে 'বেঁধে' রেখেছিলেন এবং ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর সেই জাদুটোনা দূর করেছিলেন।
ফুটবলের মাঠের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে, কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বের এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই পার করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে। এই আফ্রিকান দলটি বড় বড় কিছু দলের বিরুদ্ধে তাদের মানসিক দৃঢ়তা, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং শারীরিক শক্তি প্রদর্শন করেছে; যার ফলে তারা এখন বেশ কঠিন এক প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা মাঠে নামবে কোনো রকম চাপ ছাড়াই এবং সম্ভবত সাথে থাকছে এক বিশাল আধ্যাত্মিক শক্তি।
বনসামের অতীত রেকর্ড এবং আর্জেন্টিনার প্রতিক্রিয়া
এই কালো জাদুর হুমকির মুখে আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুসংস্কারের এই 'অভিশাপ ভাঙতে' মিম, পাল্টা আচার এবং ডিজিটাল সৌভাগ্যের প্রতীকের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আলবিসেলেস্তেদের ফুটবলের প্রতি আবেগ সীমাহীন; আর যখন কোনো অপবাদ ঘোচানো বা সন্দেহ দূর করার বিষয় আসে, তখন লিওনেল মেসির ফর্ম ও নেতৃত্বের কারণে এই দলটির সাম্প্রতিক ইতিহাস যেকোনো সময়ের চেয়েও শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে।
মিয়ামির এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি একটি সত্যিকারের যুদ্ধ হতে চলেছে, যেখানে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করতে মাঠে নামবে যে কেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট তাদের মাথায়। স্কালোনির কোচিং স্টাফরা ভালো করেই জানেন যে এই পর্যায়ে কোনো ম্যাচই সহজ নয়—প্রতিটি ম্যাচই এক একটি ফাইনাল। তাই তারা বাইরের এই সমস্ত শোরগোলকে কান না দিয়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন মাঠের ফুটবল কৌশলের ওপর।
এখন শুধু অপেক্ষা আগামী ৪ জুলাইয়ের রেফারির শুরুর বাঁশির। সেদিনই দেখা যাবে নানা কোয়াকু বনসামের ভবিষ্যৎবাণী সত্যি হয়, নাকি আর্জেন্টিনা তাদের শক্তির জানান দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে। ফুটবল আবারও এমন এক চমৎকার গল্প উপহার দিচ্ছে যেখানে চিরন্তন গৌরবের পথে বাস্তব ও অন্ধবিশ্বাস একে অপরের মুখোমুখি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে কেপ ভার্দের উল্কসদৃশ উত্থান
'ব্লু শার্কস' নামে পরিচিত কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রকেটের গতিতে এগিয়ে চলেছে। কেপ ভার্দিয়ান ফুটবল ফেডারেশন দ্বারা পরিচালিত এই দলটি মাত্র ৫ লক্ষ ২৫ হাজার জনসংখ্যার একটি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের বড় ধরনের সাফল্য আসে ২০১৩ সালে, যখন তারা আফ্রিকা কাপ অব নেশনস-এ প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়—যা তারা ২০২৩ সালেও পুনরাবৃত্তি করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের এই ঐতিহাসিক যোগ্যতা অর্জন তাদের বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দলটির মূল শক্তি তাদের কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী খেলোয়াড়দের প্রতিভা।
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এসে তারা গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচে হারেনি। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দেওয়ার পর সৌদি আরব ও উরুগুয়ের সঙ্গেও ড্র করে তারা রাউন্ড অব থার্টি টু-তে জায়গা করে নেয়।