স্পোর্টস ডেস্ক | ২৯ জুন, ২০২৬
নাটকীয়তা, উত্তেজনা আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ—সবকিছু মিলিয়েই শুরু হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাযুদ্ধ। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচেই তৈরি হলো নতুন ইতিহাস। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলো বা রাউন্ড অব সিক্সটিনে জায়গা করে নিল টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক কানাডা।
ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে স্টিভেন ইউস্টাকিওর করা একমাত্র গোলটি কানাডিয়ানদের প্রথমবারের মতো নিয়ে গেল শেষ ষোলোতে।
এবারের বিশ্বকাপের আগে দুবার বিশ্বমঞ্চে এলেও কখনো গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি কানাডা। অন্যদিকে, আফ্রিকার প্রতিনিধি দক্ষিণ আফ্রিকার গল্পটাও ছিল একই। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপ খেললেও এবারই প্রথম নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব থার্টি টু) পা রেখেছিল ‘বাফানা বাফানা’রা। ফলে দুই দলের সামনেই ছিল নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখার সুযোগ। বিশেষ করে এবারের বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া বাদে আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টিই নকআউটে উঠে এসে যে সুসময়ের বার্তা দিচ্ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়ের মধ্য দিয়ে তাতে কিছুটা ধাক্কা লাগল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ‘ডিহাইড্রেশন ব্রেক’ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেছিল তারা। তবে বল পজিশনে পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণ তৈরিতে ঢের বেশি কার্যকর ছিল জেসি মার্শের কানাডা। ২২তম মিনিটে ডেরেক কর্নেলিউসের করা একটি জোরালো হেড সোজাসুজি দক্ষিণ আফ্রিকান গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের গ্লাভসে জমা না হলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত কানাডা।
ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে কানাডাকে গোলবঞ্চিত করেন দক্ষিণ আফ্রিকার অব্রে মদিবা। ময়জে বোমবিতোর দারুণ এক হেডে বল যখন জালের দিকে যাচ্ছিল এবং গোলরক্ষক লাইনের বাইরে ছিলেন, তখন গোললাইন থেকে দলকে বাঁচান মদিবা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচের উত্তাপ আরও বাড়ে একটি পেনাল্টি চাওয়াকে কেন্দ্র করে। কানাডার লারিয়াকে ডি-বক্সে দক্ষিণ আফ্রিকার মুদাও ফাউল করেছেন— এমন দাবিতে পেনাল্টির আবেদন করে কানাডা। কিন্তু মাঠের রেফারি ও পরে ভিএআর সেই আবেদন নাকচ করে দিলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। বিরতির বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে রেফারির দিকে ছুটে যান কানাডার হেড কোচ জেসি মার্শ।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে কানাডা। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রক্ষা করেন তাদের অতন্দ্র প্রহরী রনওয়েন উইলিয়ামস। জোনাথন ডেভিডের নেওয়া একটি চমৎকার শট পা দিয়ে রুখে দেন এই গোলকিপার। ফিরতি শটে আবারও গোল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে এবার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান এমবোকাজি।
ম্যাচ যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল এবং সবাই অতিরিক্ত সময়ের মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১তম মিনিট) দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণদুর্গ ভেঙে বল জালে জড়ান স্টিভেন ইউস্টাকিও। চলতি বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল। আর এই এক গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় কানাডার শেষ ষোলোর টিকিট।