স্পোর্টস ডেস্ক | ০৬ জুলাই, ২০২৬
বোলিংয়ে নাহিদ রানার রেকর্ডগড়া আগুন ঝরানোর দিনে ব্যাটিংয়ে চরম হতাশ করল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে দিয়েও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
স্বাগতিক বোলারদের তোপে মাত্র ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ফলে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানের হার দিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো সফরকারীদের।
এর আগে হারারেতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। অধিনায়ক মিরাজের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ একাই গুঁড়িয়ে দেন গতি তারকা নাহিদ রানা। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগারের নতুন রেকর্ড গড়ে ২১ রানে একাই ৬ উইকেট নেন তিনি। নাহিদের তোপে মাত্র ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসা জিম্বাবুয়েকে টানেন রিচার্ড এনগারাভা (২৭) ও নিউম্যান নিয়ামুরি (৩৩)। নবম উইকেটে তাদের ৬৩ রানের জুটির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।
১৪২ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পেসারদের পাতা শর্ট বলের ফাঁদে পা দিয়ে একের পর এক উইকেট বিলিয়ে আসেন টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় ওভারে ব্লেসিং মুজারাবানির শর্ট বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন তানজিদ হাসান (৮)। নিজের পরের ওভারে মুজারাবানির অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে থার্ডম্যানে ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত (৩)। দুই সতীর্থের বিদায়ের পরও সাবধান হননি সৌম্য সরকার। রিচার্ড এনগারাভার অফ স্টাম্পের সাধারণ একটি শর্ট বল অনায়াসে ছেড়ে দেওয়া যেত, কিন্তু অনেকটা শূন্যে ভেসে উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে ডিপ থার্ডম্যানে ক্যাচ দেন সৌম্য (৬)। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে দল।
চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উইকেট ধরে রেখে ধীরে ধীরে তারা দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কঠিন সময় পার করার পর সম্পূর্ণ বিনা কারণে উইকেট ছুঁড়ে আসেন হৃদয়। নিউম্যান নিয়ামুরির অফ স্টাম্পের বাইরের সাদামাটা বল তাড়া করতে গিয়ে ৫৮ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন তিনি। ভেঙে যায় ৮৮ বল স্থায়ী ৪৯ রানের জুটি। এরপর আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন মোসাদ্দেক হোসেনও (৩)।
৭৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্রিজে এসেই একের পর এক অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ব্যাট চালিয়ে দৃষ্টিকটুভাবে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ আউট হন মিরাজ (১০)। এক প্রান্ত আগলে রাখা নুরুল হাসান সোহানকে আম্পায়ারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সাজঘরে ফিরতে হয়। ব্র্যাড ইভান্সের ইনসুইং বল সোহানের প্যাডে লাগলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউর সাড়া দেন, যদিও বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। সিরিজে ডিআরএস না থাকায় ৪৪ বলে ৩১ রান করা সোহানকে একরাশ হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়।
সোহানের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। রিশাদ হোসেন ১০ বলে ৩ রান করে কট বিহাইন্ড হন। তাসকিনের পর শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন মুস্তাফিজুর রহমান, তখন বাংলাদেশের স্কোর ১১৬।