Sylhet Today 24 PRINT

রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন চূর্ণ: পর্তুগালকে বিদায় করে কোয়ার্টারে স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক |  ০৭ জুলাই, ২০২৬

ম্যাচটা যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাই তত জোরালো হচ্ছিল। কিন্তু স্পেন যেন শেষ মুহূর্তের জন্যই জমিয়ে রেখেছিল সবচেয়ে বড় আঘাতটা। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর নাটকীয় গোল পর্তুগালের সব প্রতিরোধ ভেঙে দিয়েছে। ডালাসে ১–০ গোলের মহানাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন, আর তাতেই থমকে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও সিআরসেভেনকে ফিরতে হলো খালি হাতে।

ডালাসে শেষ ষোলোর এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, দুই দলই ঝুঁকি নিয়ে নয়, বরং ভুল এড়িয়ে খেলতে চায়। বলের দখলে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন এগিয়ে থাকলেও, পর্তুগালের রক্ষণ ছিল যথেষ্ট সংগঠিত। ফলে আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের কৌশলের লড়াই ছিল বেশি চোখে পড়ার মতো।

তবুও ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি এসেছিল স্পেনের পায়েই। নবম মিনিটে দানি অলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বলে গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তার মুখোমুখি হয়েছিলেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কিন্তু এই স্ট্রাইকার অবিশ্বাস্যভাবে পোস্টের বাইরে মেরে বসেন। চার মিনিট পরই জবাব দেয় পর্তুগাল। ব্রুনো ফের্নান্দেসের পাসে বক্সে ঢুকে দারুণ শট নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন দারুণ দক্ষতায় বল ঠেলে কর্নার করে দেন।

১৭ মিনিটে স্পেনের জোড়া আক্রমণ রুখে দেন দিয়েগো কস্তা। প্রথমে লামিনে ইয়ামালের বাঁকানো শট এক হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি, এরপর ফিরতি বলে আলেক্স বায়েনার জোরাল প্রচেষ্টাও অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন এই পর্তুগিজ প্রাচীর। প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশ্য ভাগ্য ছিল স্পেনের পক্ষে। ৪১ মিনিটে নুনো মেন্দেসের জোরাল শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর গায়ে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।

বিরতির পর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। রোনালদোকে কড়া পাহারায় রাখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা, অন্যদিকে ইয়ামাল-অলমোদেরও সহজে জায়গা দেয়নি পর্তুগালের রক্ষণ। তবে ৫৬ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় পর্তুগাল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা নুনো মেন্দেস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁর জায়গায় নেলসন সেমেদো নামলেও পর্তুগালের বাঁ প্রান্তে আগের সেই দৃঢ়তা আর দেখা যায়নি।

ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে স্পেন ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে শুরু করে। ৬২ মিনিটে পেদ্রির শট প্রতিহত হয় এবং ৭৩ মিনিটে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান কস্তা। ৭৯ মিনিটে দানি অলমোর গোলমুখী শট শেষ মুহূর্তে স্লাইড করে আটকে দেন রুবেন দিয়াস।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়েই গড়াবে, ঠিক তখনই অন্তিম মুহূর্তে পাশার দান উল্টে দেয় স্পেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দ্রুত নেওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে ফাবিয়ান রুইস বল বাড়ান ফেরান তোরেসকে। তোরেসের নিখুঁত পাসে পর্তুগিজ গোলরক্ষক কস্তাকে একা পেয়ে যান মিকেল মেরিনো। বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি বদলি নামা এই মিডফিল্ডার।

বাকি কয়েক মিনিটে সব শক্তি দিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে পর্তুগাল। কিন্তু স্পেনের জমাট রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই মেরিনোকে ঘিরে স্প্যানিশ শিবিরে যখন উল্লাসের জোয়ার, অন্যদিকে তখন শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার হতাশায় নুইয়ে পড়া মুখ নিয়ে মাঠ ছাড়েন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.