সিলেটুডে ডেস্ক | ১৬ জুলাই, ২০২৬
আর কিছুক্ষণ পরই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার লডাইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা।
ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হচ্ছে এক রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে। ফুটবল অনুরাগীদের রক্তে নাচন ধরানো এই লড়াইকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই যেন বাতাসে বারুদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফুটবল বোদ্ধারা একে দেখছেন ‘ফাইনালের আগে আগাম এক ফাইনাল’ হিসেবে। একদিকে ইংলিশ ফুটবলের শক্তিমত্তা ও গতির দাপট, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার নান্দনিক শৈল্পিক ফুটবলের ঝংকার- দুইয়ের সংমিশ্রণে এটি হতে যাচ্ছে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার এক ধ্রুপদী লড়াই।
মাঠে আজ নামবেন লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ ও জুলিয়ান আলভারেজরা। তবে এই ম্যাচের আবহ স্মৃতির পাতায় ফিরিয়ে আনছে ফুটবলের বরপুত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা লড়াই মানেই আবেগ, ভালোবাসা, বেদনা ও বীরত্বগাথার এক অনন্য সমীকরণ। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের কাছে আর্জেন্টিনার হার কিংবা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’—সবই আজ রোমন্থন করছেন সমর্থকরা। মেক্সিকোর মাঠে পিটার শিলটনকে বোকা বানিয়ে ম্যারাডোনার সেই একক নৈপুণ্য আজও ইংলিশদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন।
ফুটবলের এই দুই পরাশক্তির দ্বৈরথ মাঠ পেরিয়ে ছড়িয়েছে মাঠের বাইরেও। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মেরে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড পাওয়া কিংবা ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহামের পেনাল্টি গোলে ডাচদের প্রতিশোধ—সবই ফুটবলের শিকড় ছোঁয়া লড়াইয়ের অংশ। ১৯৬৬ সালের পর আর ট্রফি ছোঁয়া হয়নি ইংল্যান্ডের; অন্যদিকে আজ মেসির নেতৃত্বে আলবিসেলেস্তেরা লড়ছে ট্রফি ধরে রাখার অভিযানের শেষ ধাপে পৌঁছাতে। ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্ম জুড বেলিংহাম, কেইন ও রাইসরা প্রস্তুত দক্ষিণ আমেরিকান শক্তিকে রুখে দিতে।
ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা কখনো হারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ সেই রেকর্ড ধরে রাখার মিশন মেসিদের। ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই মেসির জন্য এটি এক বড় পরীক্ষা, কারণ ইংলিশদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা তার এখনো হয়নি। নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন ইতিহাস বদলানোর। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে ক্লান্তি ঝেড়ে ফিটনেস নিয়ে আলাদা কাজ করে তৈরি হচ্ছে ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরা। আক্রমণ বনাম রক্ষণের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কার হয়, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।