ক্রীড়া প্রতিবেদক | ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
আফগানিস্তানকে ১০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ । বাংলাদেশের করা ২৬৭ রানের জবাবে খাবি খেতে থাকা আফগানরা কোনমতে ১৬২ রান তুলেই সবাই আউট হয়ে যায় যার ফলে সব আশঙ্কাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত দাপটে জয়েই বিশ্বকাপশুরু করল মাশরাফিবাহিনী । আর এই জয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা । ব্যাটিং এ ৯ বলে ১৪ রান করার পর বোলিং এ শুরুতেই ২টি উইকেট নিয়ে কাঁপিয়ে দেন আফগান বেঞ্চ । মাশরাফির সাথে শুরুতেই আফগানদের কাঁপিয়ে রুবেল হোসেনও ১ উইকেট তোলে নিলে আফগানদের স্কোর দাঁড়ায় - ৩ ওভারে ৩ রানে ৩ উইকেট!
এ যেন স্বপ্নের মত শুরু । মাশরাফি এরপর আফগান অধিনায়ককেও আউট করে নেন আরেকটি উইকেট । মাশরাফি ৯ ওভার বল করে ২০ রান দিয়েই নেন ৩ উইকেট । সাকিব ৪২ রান খরচায় ২ উইকেট । এছাড়া রুবেল , তাসকিন ও রিয়াদ ১টি করে উইকেট লাভ করেন ।
আফগানিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী ম্যাচের কদিন আগ থেকেই হুঙ্কার ছাড়ছিলেন । তার সব হুঙ্কার আমলে নেয়নি টীম বাংলাদেশ । কেন নেয় নি তার প্রমান মাঠেই দিয়েছে টাইগারবাহিনী ।
এর আগে প্রথমে টস জিতে ব্যাটিং পিচে স্বাভাবিক কারনেই ব্যাটিং নিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি । দেখে শুনেই শুরু করার নির্দেশ ছিলো তামিম-বিজয়কে কিন্তু তারা সতর্কভাবে খেলতে গিয়ে যেন একদম খোলসবন্দি হয়ে সিঙ্গেল রান নিতেই ভুলে গেলেন । প্রথম ১০ ওভারে এল ৩৮ রান , পরের ১০ ওভারে মাত্র ২৯ । তাও আবার তামিম , বিজয় দুজন আউট হবার সৌম্য আর রিয়াদ ১৯তম ও ২০তম ওভারে ১১ রান নিয়েছিলেন বলেই ।
পড়তি রানরেট ও দুই ওপেনার হারিয়ে ভীষন চাপে পড়া দলকে সাময়িক রক্ষা করেন মূলত সৌম্য সরকার । ঝড়ো ২৮ রানের ইনিংস খেলে রিয়াদের সাথে ৫০ রানের জুটি করে বড় কিছুর ইঙ্গিত দিতেই অবশ্যই আম্পায়ারের কিছুটা বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কাটা পড়েন এই তরুন ।
এরপরও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও ফিরে গেলে চাপ বাড়ে যায় কয়েকগুন । তবে বাংলাদেশকে চাপমুক্ত করার কাজটা শুরু করেন দলের সবচেয়ে ভরসা মুশফিক ও সাকিব । দুজনে মিলে ১১৪ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন খাদের কিনারা থেকে ।
সাকিব ৫১ বলে ৬৩ এবং মুশফিক ৫৬ বলে ৭১ রান করে আউট হন । শেষের দিকে মাশরাফি ৯ বলে ১৪ করলেও সাব্বির ১ রান করেই ফিরে যান । আর মুমিনুলকে অযতাই রান আউটের ফাঁদে ফেলে মাশরাফির ভূতোড়ে দৌড় । আফগানদের পক্ষে সাপুর জাদরান , হামিদ , আফতাব, আশরাফ ২টি করে উইকেট লাভ করেন । শেষ বলে অলআউট হবার আগে স্কোর দাঁড়ায় ২৬৭ ।
বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যাট করতে নেমে ৫৬ বলে ৭১ রান করায় মুশফিকুর রহিমকে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরষ্কার দেয়া হয়েছে ।
ম্যাচ জিতলেও দলের টপ অর্ডারের মন্থর ব্যাটিং আর টিম ম্যানেজম্যান্টের কিছু সিদ্ধান্ত ভাবিয়ে তোলেছে সমর্থকদের । মুমিনুলকে খেলানো হলেও ব্যাটিং বোলিং কোনদিক থেকেই কাজে না লাগানোয় প্রশ্ন উঠেছে তাহলে তাকে রাখা হল কি শুধু ফিল্ডিং করতে?
ম্যাচ জেতায় প্রশ্নগুলো হয়তও বড় হবেনা কিন্তু এইরকম এলোমেলো সিদ্ধান্ত বড় ম্যাচে সমস্যার কারন হতে পারে । ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার সাথে ব্রিসবেনের গ্যাবায় । যেটি কিনা পৃথিবীর সবচেয়ে ফাষ্ট পিচগুলোর একটি ।